শহরতলির লিংকরোড এলাকার কাছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি কলেজ। কলেজগেটের উত্তর দিকে বিশাল জায়গায় নির্মিত হচ্ছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন ‘আইকনিক রেলস্টেশন ভবন’। ভবনের দক্ষিণ পাশে জানারঘোনা গ্রাম। গ্রামের ভেতরে ‘শাহ ভিলা’ নামে দুতলা একটি বাড়ি। বাড়ির সামনে ৫০০ বর্গফুট আয়তন ঘর নিয়ে গরুর খামার ‘ সিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম’। খামারের মালিক শফিকুল ইসলাম। গত শনিবার সকালে খামারে গিয়ে দেখা গেল, অন্যান্য গরুর সঙ্গে কক্সকিং ও ডায়মন্ডকে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ষাঁড়গুলো বাইরের মাঠে আনা যাচ্ছে না।

ষাঁড়গুলোর দেখভাল করছেন মো. ইউনুস (৩০) ও মো. ইউসুফ (১৮) নামের দুই রাখাল।

ইউসুফ বললেন, প্রতিদিন ষাঁড় দুটিকে গড়ে দুই হাজার টাকার খাবার খাওয়াতে হয়। খাবারের মধ্যে আছে খৈল (কোরা), ভুসি, ভুট্টা, গমের ভুসি, সয়ামিল ফুল, ভিটামিন ফিড, সাগু ইত্যাদি। মাঝেমধ্যে ষাঁড়গুলোর বদহজম হয়। তখন প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।

ষাঁড়ের নাম ‘কক্সকিং’, অর্থাৎ ‘কক্সবাজারের রাজা’ কেন? জবাবে খামারের মালিক শফিকুল ইসলাম (৩৫) প্রথম আলোকে বলেন, এত বড় মোটাতাজা ষাঁড় জেলায় দ্বিতীয়টি নেই। এটির ওজন ৩০ মণ। লম্বায় ১৩ ফুট ৫ ইঞ্চি, উচ্চতা ৭ ফুট ৭ ইঞ্চি। অন্যান্য ষাঁড়ের ওজন আন্দাজ করে বলা হয় ২৫ মণ, ২৭ মণ। কিন্তু তাঁর ষাঁড় দুটি মাপা হয়েছে আইকনিক রেলস্টেশনের মালামাল ওজন যন্ত্রের মাধ্যমে। মোটা ষাঁড়ের ওজন মাপার যন্ত্র রেলস্টেশনের ছাড়া জেলায় অন্য কোথাও নেই।

কক্সকিংয়ের দাম কত জানতে চাইলে শফিকুল ইসলামের জবাব, কোরবানীর জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের কয়েকজন প্রভাবশালী-ধনাঢ্য ব্যক্তি খামারে এসে সাড়ে ৯ লাখ, ১০ লাখ টাকায় কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু কক্সকিং বিক্রি হবে ১৫ লাখে। আর ডায়মন্ড ১৪ লাখে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে খরুলিয়ার কোরবানির হাঁটে ষাঁড় দুটি বিক্রির জন্য তোলা হবে। সেখানে দেখা যাবে কী পরিস্থিতি দাঁড়ায়।

ডায়মন্ড ষাঁড়টি দেখতে সুন্দর। ওজন পৌনে ২০ মণ। লম্বা ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। লাল ও খয়েরি রং মিশ্রিত ষাঁড়টির শিং দুটি চমৎকার।

প্রতিকেজি গোশতের দাম ৭০০ টাকা হিসাব করলে ৩০ মণ (১২০০ কেজি) ওজনের কক্সকিংয়ের দাম পড়ে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি ১৫ লাখ টাকা কেন? জবাবে মালিক শফিকুল বললেন, ষাঁড়গুলো লালন–পালনের বিপরীতে ১৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

১৮ মাস আগে চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকার পদুয়া গ্রামের একটি খামার থেকে ২ লাখ ৮৮ হাজার কেনা হয়েছিল কক্সকিং নামের গরুটি। তখন ওজন ছিল প্রায় ১১ মণ। এখন ষাঁড়টির ওজন ৩০ মণ।

১৮ মাস আগে চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকার পদুয়া গ্রামের একটি খামার থেকে ২ লাখ ৮৮ হাজার কেনা হয়েছিল কক্সকিং নামের গরুটি। তখন ওজন ছিল প্রায় ১১ মণ। এরপর দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকার খাবার খাওয়াতে হয়েছে। ১৮ মাসে ষাঁড়টি মোটাতাজার করার পেছনে খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকার বেশি। এখন ষাঁড়টির ওজন ৩০ মণ।

২২ মাস আগে চকরিয়ার ইলিশিয়া বাজার থেকে ১ লাখ ৩১ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল ডায়মন্ডকে। তখন ওজন ছিল ১০ মণের কাছাকাছি। এখন ওজন প্রায় ২০ মণ।
default-image

২২ মাস আগে চকরিয়ার ইলিশিয়া বাজার থেকে ১ লাখ ৩১ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল ডায়মন্ডকে। তখন ওজন ছিল ১০ মণের কাছাকাছি। এখন ওজন প্রায় ২০ মণ। সুন্দরের কারণে ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা। ডায়মন্ডের পেছনেও ব্যয় হয়েছে কক্সকিংয়ের সমপরিমাণ টাকা।

কক্সকিং ও ডায়মন্ডকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অনেকে খামারে জড়ো হয়েছেন। কেউ ষাঁড়ের পাশে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে তুলছেন ছবি, ধারণ করছেন ভিডিও চিত্র।

ষাঁড় দেখতে আসা শহরের বাজারঘাটার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে কক্সকিংয়ের ছবি দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন। এত বড় ষাঁড় জেলায় আর আছে কি না, তা তিনি জানেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন