বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাশে শুকনাছড়ির প্রতিবেশ সংকটাপন্ন ও রক্ষিত ৭০০ একর পাহাড়ি বনভূমিতে আমরা প্রশিক্ষণ একাডেমি চাই না। চাই বনাঞ্চলে ঝুঁকিতে থাকা হাতিসহ বন্য প্রাণীর সুরক্ষা। গত তিন বছরে কক্সবাজারের বনাঞ্চলে মারা গেছে ১৭টি বন্য হাতি। ১১ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়শিবির তৈরিসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা তৈরির বিপরীতে উজাড় হয়েছে আরও ১২ হাজার একরের বেশি বনাঞ্চল। এতে শতাধিক বন্য হাতির অভয়ারণ্য উজাড়, খাদ্য ও খাওয়ার পানির তীব্র সংকটে পড়েছে বন্য প্রাণী। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ একাডেমির বিপরীতে আরও ৭০০ একর বনাঞ্চল উজাড় হলে বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব থাকবে না। তাই প্রশিক্ষণ একাডেমির বিপরীতে বরাদ্দ ৭০০ একর বনভূমির ইজারা বাতিলের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।’

বাপা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, ‘১০০-৩০০ সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের জন্য ৭০০ একর জমির দরকার কেন হবে? তারপরও প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের দরকার হলে জেলায় বহু সমতল ভূমি রয়েছে, সেখানে প্রশিক্ষণ একাডেমি তৈরি করলে আমাদের কারও আপত্তি নেই। কিন্তু বনাঞ্চল উজাড় করে কাউকে প্রশিক্ষণ একাডেমি করতে দেওয়া হবে না।’

default-image

নজরুল ইসলাম বলেন, পর্যটন শহরের দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে বলে সবার নজর পড়েছে সমুদ্রসৈকত এলাকার দিকে। প্রাকৃতিক দৃশ্য, পাহাড়, ঝরনা, বন্য প্রাণীর দৌড়ঝাঁপ দেখতে মানুষ কক্সবাজারে ছুটে এলেও সরকারি আমলারাই তা ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। কক্সবাজারের ২৫ লাখ মানুষ ৭০০ একর বনভূমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি চান না।
৭০০ একর বনভূমির ইজারা বাতিলের দাবিতে গত শুক্রবার দুপুরে শহরের প্রধান সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে খেলাঘর, উদীচী, যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়ন। একই দিন মেরিন ড্রাইভের শুকনাছড়িতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় কয়েক শ মানুষ।

শুকনাছড়ি সমাজ কমিটির সভাপতি ফয়েজ আহমদ বলেন, বনাঞ্চলের আশপাশে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য বরাদ্দ ৭০০ একর বনভূমিতে রয়েছে হাতিসহ বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। একাডেমির জন্য এ বনাঞ্চল উজাড় হলে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। এলাকার মানুষ তা মোটেও চান না।

৫ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় ‘৭০০ একর বনভূমি প্রশাসন একাডেমির জন্য বরাদ্দ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর জেলার পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজ মাঠে নামে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের ওই বনভূমি রক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন। জমি বন বিভাগের হলেও বরাদ্দ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ৭০০ একরের ওই বনভূমি ধ্বংস করে সেখানে বঙ্গবন্ধু সিভিল সার্ভিস একাডেমি (বিএপিএ) ও বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) নিজস্ব ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

বাপার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ঝিলংজা বনভূমিকে ‘রক্ষিত বনভূমি’ বলে ঘোষণা করার পর থেকে বন বিভাগ এটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। ২০০১ সালে দেশের বনভূমির যে তালিকা করা হয়, তাতেও ঝিলংজা মৌজা বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত আছে। এই বনভূমির বরাদ্দ দেওয়া জমির ৪০০ একর পাহাড় ও ৩০০ একর ছড়া বা ঝরনা। সেখানে অনেক দুর্লভ প্রজাতিসহ ৫৮ প্রজাতির বৃক্ষ আছে। এ ছাড়া বন্য প্রাণীর মধ্যে আছে এশীয় বন্য হাতি, বানর, বন্য শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি। এ কারণে বন বিভাগ থেকে ‘এই ভূমি বন্দোবস্তযোগ্য নয়’ উল্লেখ করে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু বন বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির আপত্তি উপেক্ষা করে বন বিভাগের আওতাধীন এই ভূমি বেআইনিভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ইজারা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন