বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারে বর্তমানে ১ লাখ ১০ হাজারের মতো পর্যটক আছেন। এর মধ্যে গতকাল ভোরে ৪ শতাধিক বাসে ৩০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। শতাধিক পিকনিক বাসের কক্সবাজার ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু পথে ভাঙচুরের শিকার হতে পারে বাস, এমন শঙ্কায় গাড়ি বের করতে চাচ্ছেন না চালকেরা।

এ ছাড়া ৫ শতাধিক বাসে আরও ১০ হাজার পর্যটকের কক্সবাজার ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন তাঁরা। বাস চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে আছে দুশ্চিন্তাও।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে আটকা পড়া পর্যটকদের পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার পথে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আজ সকাল থেকে জেলা পুলিশ এ উদ্যোগ নিয়েছে। কোনো পর্যটক কক্সবাজারে আটকা পড়লে ও বাড়িতে ফিরতে সমস্যা হলে কক্সবাজার পুলিশ লাইনে যোগাযোগ করলে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেবে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে বাস রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কাউন্টারেও বাসের রয়েছে সারি। যাত্রীরা কাউন্টারে গিয়ে ফেরত যাচ্ছেন। তবে অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলছে। অনেক পর্যটক বিমানে ও অটোরিকশায় চট্টগ্রামে গিয়ে সেখান থেকে ট্রেনে করে বাড়িতে ফিরছেন। কক্সবাজার শহর থেকে রামু ও ঈদগাঁও এবং ঈদগাঁও থেকে চকরিয়া পর্যন্ত অটোরিকশা, ইজিবাইক, মাইক্রোবাসে চড়ে মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। এসব পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

পরিবহনশ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডা হচ্ছে। চকরিয়া শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালে অন্তত শতাধিক বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রীরা টিকিট কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারছেন, কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। তবে কক্সবাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত কোনো পরিবহনশ্রমিককে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে বাধা দিতে দেখা যায়নি।

মহেশখালী থেকে অটোরিকশায় চড়ে চকরিয়া শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালে যান রফিউল করিম। তাঁর মাকে চিকিৎসা করানোর জন্য ঢাকা যাওয়া প্রয়োজন। সকাল নয়টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চকরিয়া পৌঁছানোর পর জানতে পারি, কোনো বাস ঢাকা যাবে না। এখন দুর্ভোগে পড়ে গেলাম। হঠাৎ এভাবে পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া বেআইনি।’

আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক কামাল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার তেলের দাম বাড়ালে দামের সঙ্গে ভাড়া বাড়ার বিষয়টিও ঘোষণা দেওয়ার কথা। সরকার তা না করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, কিন্তু ভাড়া বাড়ায়নি। সরকার পরিবহনশ্রমিকদের একপ্রকার রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস গ্রিন লাইনের কক্সবাজারের ব্যবস্থাপক সোলতান আহমদ বলেন, গতকাল ও আজ বিকেল তিনটা পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো বাস ছাড়েনি। রাতের বাস ছাড়বে কি না, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকেরা সৈকতে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা হয়তো পরিবহন ধর্মঘটের কথা জানেন না। তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন