বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল দুপুরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং উপকূল ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে শত শত একর মাঠে লবণ উৎপাদন করছেন চাষিরা। উৎপাদিত লবণ মাঠে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। প্রতি স্তূপে লবণ আছে ৫০ থেকে ১০০ মণ। তবে বেচাবিক্রি তেমন নেই। অন্তত ৪০ জন চাষিকে উৎপাদিত লবণ মাঠের পাশে পুকুর আকৃতির গর্ত খুঁড়ে সেখানে লবণ রেখে তার ওপর মাটিচাপা দিতে দেখা গেছে। শাহপরীর দ্বীপের চাষি জাহেদ উল্লাহ ইতিমধ্যে গর্তে মজুত করেছেন ৪০ হাজার মণ লবণ, মো. ছিদ্দিক ৩০ হাজার মণ, নয়াপাড়ার মোহাম্মদ শরীফ ৭০ হাজার মণ, মো. সালাম ৫০ হাজার মণ, হাফেজ উল্লাহ ২৫ হাজার মণ, মো. সেলিম ২০ হাজার মণ মজুত করেছেন।

গর্তে লবণ মজুতের কারণ জানতে চাইলে জাহেদ উল্লাহ (৫০) প্রথম আলোকে বলেন, কালবৈশাখীর ঝড়–বৃষ্টি যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে। তখন স্তূপ করে রাখা লবণ গলে (নষ্ট) বৃষ্টির পানিতে মিশে যেতে পারে। উপকূলে লবণ সংরক্ষণের গুদাম নেই বলে চাষিরা মাটির নিচে (গর্তে) লবণ মজুত করে রাখছেন। ঝড়–বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাসেও গর্তের লবণ নষ্ট হয় না।

বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। কালবৈশাখীর ঝড়–বৃষ্টি আতঙ্কে চাষিরা উৎপাদিত লবণ মাটির নিচে, ঘরবাড়ির আঙিনা ও উঁচু স্থানে মজুত করছেন। বৃষ্টিতে যেন লবণের ক্ষতি না হয়, সে জন্য স্তূপের ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন।

টেকনাফ উপজেলা লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শফিক মিয়া বলেন, এপ্রিল মাসের শুরুতে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হয়েছিল ২৮০ টাকার বেশিতে। এখন সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগীরা লবণের দাম আরও কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে চাষিদের লোকসান দিয়ে লবণ বিক্রি করতে হচ্ছে। যদিও এক মণ লবণ উৎপাদনের বিপরীতে চাষিদের খরচ যাচ্ছে ২৩০ টাকার বেশি। বর্তমানে মাঠে পড়ে আছে এক লাখ টনের বেশি লবণ। ঝড়–বৃষ্টিতে এই লবণ নষ্ট হলে চাষিদের পথে বসতে হবে।

বিসিক কক্সবাজার লবণশিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল বলেন, মৌসুমজুড়ে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি থাকায় এবার লবণের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তা ছাড়া ৬৩ হাজার ২৯১ একর জমির শতভাগে পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণের চাষ হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদনও বেড়েছে ২৫-৩০ শতাংশ। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদন চলবে। কিন্তু এর মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হলে লবণ উৎপাদন ৭-১০ দিন বন্ধ থাকতে পারে। তখন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

default-image

কক্সবাজার সদর উপজেলার লবণ চাষি সাজেদুর রহমান (৫০) বলেন, মাঠে প্রতি মণ লবণ ৪০০ টাকায় বিক্রি হলে চাষিরা কিছুটা লাভের মুখ দেখতেন। তখন প্রতি কেজি লবণের দাম পড়ত ১০ টাকা। এখন পাওয়া যাচ্ছে ৬-৭ টাকা। যদিও খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকায়।

মহেশখালীতে লবণের চাষ হচ্ছে ১৬ হাজার ১৮ একর জমিতে। মাঠে উৎপাদিত বেশির ভাগ লবণ কার্গোবোঝাই করে সমুদ্রপথে সরবরাহ হয় নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায়।
উপজেলার কুতুবজুমের চাষি রুহুল আমিন (৪৫) বলেন, গত দুই দিন সমুদ্র উত্তাল রয়েছে, এ কারণে লবণ বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে। তা ছাড়া লবণের ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হতাশ চাষিরা।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের চক্রান্তে প্রান্তিক চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার লবণ আমদানি বন্ধ রেখেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন