বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অশনি দুর্বল অবস্থায় বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। এর প্রভাবে ১৩ মে পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূল থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে অবস্থান করছিল।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, সিগাল ও লাবনী পয়েন্টের ৪ কিলোমিটারে গোসলে নেমেছেন অন্তত ২৫ হাজার পর্যটক। আগের দিন মঙ্গলবার দুপুর থেকে সমুদ্রে গোসলে নামা নিষিদ্ধ করে বালুচরে একাধিক লাল নিশান উড়ানো হয়। আজ সকালেও লাল নিশানগুলো ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা মানছেন না কেউ।

সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা সময়ে শুধু সুগন্ধা পয়েন্টের এক কিলোমিটার সৈকতে নেমেছেন অন্তত ১০ হাজার পর্যটক। সাগরে না নামার জন্য বালুচরে স্থাপন করা নিশানের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠানের সি-সেফের একজন লাইফগার্ড সদস্য। তাঁর সামনে সমুদ্রের পানিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কয়েক হাজার পর্যটক। বড় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় পর্যটকেরা একবার কূলের দিকে, আরেকবার গভীর সাগরের দিকে ভেসে যাচ্ছেন। লাইফগার্ডের সদস্যরা বাঁশি বাজাচ্ছেন কোমরসমান পানিতে নেমে গোসলে ব্যস্ত পর্যটকদের উঠে আসার জন্য। কিন্তু পর্যটকেরা তাঁদের কথা মানছেন না।

বেলা ১১টায় সুগন্ধা পয়েন্টে গোসলে নামেন ঢাকা থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আজমত উল্লাহ। তাঁর ২০ থেকে ৫০ গজ দূরে উড়ছে লাল নিশান। ঝুঁকি নিয়ে গোসলে নামার কারণ জানতে চাইলে আজমত উল্লাহ (৪২) বলেন, ঘূর্ণিঝড় অশনি কেটে গেছে। সূর্যও উঠে গেছে। এখন সমুদ্রে নামতে সমস্যা নেই। তা ছাড়া তাঁর সাঁতার জানা আছে।
পানির নিচে একাধিক গুপ্তখালের কথা আছে জানালে আজমত বলেন, গুপ্তখালের কথা পত্রিকায় পড়েছি, কিন্তু এখানে গুপ্তখাল আছে জানা ছিল না।

কুমিল্লার টাউন হল এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী উত্তাল সমুদ্রে নেমে দিচ্ছেন দৌড়ঝাঁপ। লাফ দিয়ে বড় বড় ঢেউ অতিক্রমের প্রতিযোগিতা করছেন। লাইফগার্ডের সদস্যরা তাঁদের জীবনের ঝুঁকির কথা জানিয়ে বারবার উঠে আসার অনুরোধ জানাচ্ছেন। কিন্তু সেদিকে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই।

সুগন্ধা পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জালাল আহমেদ। কিন্তু তাঁর কথা কেউ আমলে নিচ্ছেন না।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জালাল আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে আকাশের কালো মেঘ সরে গিয়ে সূর্য দেখা দিলেও সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আরও দু-তিন দিন সাগর উত্তাল থাকতে পারে। এ সময় ঝুঁকি নিয়ে গোসলে নামলে প্রাণহানি ঘটতে পারে। নানাভাবে প্রচারণা চালিয়েও পর্যটকদের ফেরানো যাচ্ছে না। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সমুদ্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য গোসলে নামা নিষিদ্ধ করে মাইকিং করে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।

default-image

লাইফগার্ডের সদস্যরা বলছেন, ২ মে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, সিগাল ও লাবনী পয়েন্টের চার কিলোমিটারে পাঁচ-ছয়টি ‘গুপ্তখাল’ সৃষ্টি হয়েছে। খালগুলো এখনো রয়ে গেছে। ভাটার সময় পানি নেমে গেলে দুটি গুপ্তখাল দৃশ্যমান হয়, অপরগুলো সব সময় ডুবে থাকে। গুপ্তখালে আটকা পড়লে প্রাণ রক্ষার উপায় নেই।

সি–সেফের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, বৈরী পরিবেশে সাগর উত্তাল হলেও পর্যটকদের গোসলে নামা বন্ধ করা যাচ্ছে না। গুপ্তখালে আটকা পড়লে উদ্ধারের ডুবুরিও কক্সবাজারে নেই। ৪ মে বিকেলে সুগন্ধা পয়েন্টের সি প্রিন্সেস হোটেলের সামনের গুপ্তখালে আটকা পড়ে সাইফুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন