default-image

কক্সবাজারে কড়াকড়ি লকডাউন চলছে। মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের পাহারা, চলছে তল্লাশি। শহরের আগের ব্যস্ততম বাইপাস সড়ক, কলাতলী সৈকত সড়ক, শহরের প্রধান সড়ক সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন বুধবার সকাল থেকেই ছিল ফাঁকা। কয়েকটি রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ছাড়া এসব সড়কে তেমন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।    

গত ১ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের সমাগম নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন। তা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে সে সময় বলা হয়েছিল। তবে বুধবার থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনেও কাউকে সৈকতে নামতে দিচ্ছে না পুলিশ। ফলে সমুদ্রসৈকতও ফাঁকা। বন্ধ রয়েছে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজ।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার বুধবার থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে, তার শতভাগ বাস্তবায়ন জরুরি। লকডাউনে কক্সবাজার শহর ও সৈকত এলাকার অন্তত ৩০টি শপিংমল, ২৫৫টি রেস্তোরাঁসহ ছোটবড় প্রায় ১২ হাজার দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। হোটেল মোটেল গেস্টহাউসও বন্ধ আছে। তবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত যেসব হাটবাজার খোলা রাখা হয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানা হচ্ছে না। এগুলো দ্রুত উন্মুক্ত স্থানে সরিয়ে নেওয়া দরকার।

বেলা আড়াইটায় কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যানবাহন চলাচল বন্ধ। কড়া পাহারায় রয়েছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সমুদ্র সৈকতের কলাতলী হাঙর ভাস্কর্য মোড় পর্যন্ত চার লেনের দুই কিলোমিটার সড়কেও কোনো যান চলতে দেখা যায়নি। হাঙর ভাস্কর্য মোড়ে কড়া পাহারা বসিয়েছে পুলিশ।

লকডাউনে কক্সবাজার শহর ও সৈকত এলাকার অন্তত ৩০টি শপিংমল, ২৫৫টি রেস্তোরাঁসহ ছোটবড় প্রায় ১২ হাজার দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। হোটেল মোটেল গেস্টহাউসও বন্ধ আছে। তবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত যেসব হাটবাজার খোলা রাখা হয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানা হচ্ছে না। এগুলো দ্রুত উন্মুক্ত স্থানে সরিয়ে নেওয়া দরকার।
আবু মোর্শেদ চৌধুরী, সভাপতি, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া কোনো ধরনের যান সড়কে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। জরুরি কাজে যেসব লোকজন রাস্তায় নেমেছেন, তাঁদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হচ্ছে।

আর ট্রাফিক পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) এস এম রাকিবুর রাজা বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ট্রাফিক পুলিশ মাঠে রয়েছে। করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যাত্রী নিয়ে এদিক-ওদিক চলাচল করার কারণে বুধবার ২০টির বেশি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক-টমটম জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে বেলা তিনটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নামার লাবণি পয়েন্ট মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও পাহারা বসিয়েছে পুলিশ। যানবাহন তল্লাশির পাশাপাশি হেঁটে চলা লোকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তারা। কোনো কারণ ছাড়া যেন কেউ রাস্তায় না নামেন, পথচারীদের সেই পরামর্শও দিচ্ছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে পুলিশ মাঠে নেমেছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ লোকজনের অহেতুক চলাচল বন্ধে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি কোথাও দোকানপাট খোলা হচ্ছে কি না, তাও নজরদারি করা হচ্ছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের সমাগম নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন। তা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে সে সময় বলা হয়েছিল। তবে বুধবার থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনেও কাউকে সৈকতে নামতে দিচ্ছে না পুলিশ।

টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিললুর রহমান বলেন, করোনার ঝুঁকি থেকে কক্সবাজারকে বাঁচাতে সৈকত খালি রাখার বিকল্প নেই। সংক্রমণ প্রতিরোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের সমাগম নিষিদ্ধ ছিল। গত ১ এপ্রিল থেকেও সৈকতে কাউকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, সরকারের ১৩ দফা বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পৃথক পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হয়েছে। তারা হাটবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন