default-image

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন সৈকত সড়ক। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সড়কে চলছিল ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, টমটম, রিকশা ও জরুরি সেবার কয়েকটি পরিবহন। সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। তাঁদের গলায় ঝুলছে পরিচয়পত্র, মুখে বাঁশি। একজন স্বেচ্ছাসেবী হ্যান্ডমাইক দিয়ে পথচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

সর্বাত্মক লকডাউন সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবী। স্বেচ্ছাসেবীরা গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পৌর শহরের ১২টি ওয়ার্ডে পালাক্রমে পাহারা দেন। করোনা সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রধান শাহেদ আলী বললেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা (স্বেচ্ছাসেবক) ২১ এপ্রিল সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন। পালা করে দিন-রাত পাহারা দিচ্ছেন। সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর লোকজন অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে এলে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লকডাউন বাস্তবায়নসংক্রান্ত ভার্চ্যুয়াল সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়। স্বেচ্ছাসেবীদের বেশির ভাগ পৌর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে নামানো প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকে কক্সবাজারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও করোনা সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর। পাশাপাশি আরও লোকজনকে সচেতন করতে এবং শহরের অলিগলিতে লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণে ১২০ জনের স্বেচ্ছাসেবী দলকে মাঠে নামানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা শহরের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সরকারঘোষিত ১৮ দফা বাস্তবায়নের কাজ চালাচ্ছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস প্রথম আলোকে বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সরবরাহ করা পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা লকডাউন কার্যকরে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবীদের কারও বিরুদ্ধে খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রধান মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম আজ প্রথম আলোকে বলেন, সকালে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ১০ জন করে মোট ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে মাঠে নামানো হয়েছে। তাঁরা প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, হাটবাজারে লোকসমাগম কমানো, ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক পরতে উৎসাহী করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন