বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তারপরও শহরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে জড়ো হওয়া লোকজনকে তারা ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যেকোনো সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারেন। কিন্তু তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দিচ্ছে না সরকার। উল্টো আইনমন্ত্রী এ নিয়ে রসিকতা করে বলেন বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা করাতে। নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার মানে হলো তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া।

১৪৪ ধারা জারি ও বাধা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশ করতে চাইলেও বাধা আসে। দিনের ভোট রাতে নিয়ে ক্ষমতায় আসা এ সরকারের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নেই। তাই সরকারের এমন আচরণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সকাল ছয়টা থেকে বিএনপির লোকজন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সকাল নয়টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দিয়ে ওই ময়দান ভরে যায়। টেকনাফ, উখিয়া, খুরুশকুল, রামু, মহেশখালী ও চকরিয়া থেকেও দলীয় লোকজন ঈদগাহ ময়দানে ছুটে আসেন।

default-image

সকাল সোয়া নয়টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়। প্রথমে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল। চারটি মাইকে তাঁর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছিল। এ সময় পুলিশ সমাবেশস্থলের মাইকগুলো বন্ধ করে দেয়। এরপর কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে।

পুলিশের সঙ্গে কথা শেষে বক্তব্য দেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। নেতারা বর্তমান সরকারের দুঃশাসন, অপহরণ, খুন-গুম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান এবং ভবিষ্যতে সরকার পতনের আন্দোলনের শরিক হতে উপস্থিত দলীয় লোকজন ও সমর্থকদের সহযোগিতার কামনা করেন।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়। এরপর সমাবেশে আগত লোকজন বিক্ষোভ-মিছিল করে শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সৈকত সড়কে বিক্ষিপ্তভাবে মানববন্ধন পালন করে। এ সময় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে মহাসমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিএনপি কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মহাসমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। আমাদের প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ১৪৪ ধারা জারি করে আমাদের সেই মহাসমাবেশ বানচাল করার চক্রান্ত হয়েছে। তারপরও আজ সকালে আমরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১০ হাজারের বেশি লোক নিয়ে সমাবেশ করেছি।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সকালবেলার সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির ১০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীর উপস্থিতি প্রমাণ করে কক্সবাজার বিএনপির ঘাঁটি। তবে সমাবেশ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, লাঠিপেটা কিংবা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ বাধা না দিলে এই সমাবেশ আরও বড় করা যেত।

জানতে চাইলে ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান এলাকা ১৪৪ ধারার আওতাভুক্ত ছিল না। তারপরও শহরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির মহাসমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন