বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, কক্সবাজারে করোনা সংক্রমণ আগের তুলনায় বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। পবিত্র কোরবানির ঈদের পর এ সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তখন হাসপাতালে রোগীদের ঠাঁই পাওয়া কঠিন হবে। তাই সংকট নিরসনে বেসরকারি উদ্যোগে করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হোপ ফাউন্ডেশনের ৫০ শয্যার এই আইসোলেশন কেন্দ্র করোনা রোগীদের বড় উপকারে আসবে। তিনি অন্যান্য সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদেরও মানবিক এই সেবা কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এম জাহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) এস এম নওশেদ, ডব্লিউএইচও-এর স্বাস্থ্য পরামর্শক সেনথানো সায়মন, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নজিবুল ইসলাম প্রমুখ।

সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে করোনা শনাক্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারসহ অন্যান্য হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। কোনো কোনো হাসপাতালে শয্যাও মিলছে না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পাশাপাশি করোনা রোগীর চিকিৎসায় বিকল্প উদ্যোগ মাথায় নিয়ে কাজ করছে জেলা করোনা প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ কমিটি। ৫০ শয্যার এই হোপ আইসোলেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্র করোনা রোগীর চিকিৎসা এবং সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পরীক্ষা হয়েছে ৭৯৮ জনের নমুনা। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৮৭ জনের। আগের দিন বুধবার ৯৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০২ জনের।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন মো. আবদুর রহমান বলেন, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ, ৮ শয্যার এইচডিইউসহ করোনা রোগীর চিকিৎসায় ১১৯টি শয্যা ছিল। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় গত সাত দিনে আরও ২১টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এখন সব কটি শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছেন।

সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন করোনো রোগীর চিকিৎসাসেবায় জেলায় ১৪টির বেশি আইসোলেশন সেন্টার রয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে শয্যার সংকট দেখা দিতে পারে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজার ৯২১ জন। করোনায় মারা গেছেন ১৪১ জন। বর্তমানে বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১ হাজার ৭২৭ জন। আর প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২২ জন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন