১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদ শাহ ক্যাম্পের একটি দোকানের সামনে কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোহাম্মদ শাহকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে মোহাম্মদ শাহর গলায় গুলি লাগে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোহাম্মদ শাহকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এপিবিএন পুলিশ জানায়, নিহত মোহাম্মদ শাহ আরসা সেকেন্ড-ইন-কমান্ডার ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মো. হাশিমের সহযোগী ছিলেন। গত মে মাসে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর গুলিতে হাশিম খুন হলে মোহাম্মদ শাহ ক্যাম্প ছেড়ে মিয়ানমারে আত্মগোপনে ছিলেন। কয়েক দিন আগে মোহাম্মদ শাহ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আবার এই ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নেন।

নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, ঘরের ভেতর সব সময় নেটওয়ার্ক থাকে না। তাই রাত আটটার দিকে তাঁর স্বামী মুঠোফোনে কথা বলার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পাশের একটি দোকানে যান। হঠাৎ কিছু অপরিচিত লোক দোকানে এসে তাঁর স্বামীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে দ্রুত তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর স্বামীকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, ১৫ জুন রাতে কুতুপালং ক্যাম্পের সি-ব্লকে হামলা চালায় কতিপয় আরসা সদস্য। এ সময় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আরেকটি গ্রুপ মুন্নাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে আরসা সদস্য মো. সলিম উল্লাহ নিহত হন। তিনি কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২, পশ্চিম) সি-২ ব্লকের বাসিন্দা আবদুস শুক্কুরের ছেলে। সলিম উল্লাহ আরসার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সলিম হত্যা হামলায় এপিবিএন পাঁচজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর কয়েক দিন আগে সন্ত্রাসীরা উখিয়ার বালুখালী (ক্যাম্প-২০) আশ্রয়শিবিরের একটি শেডের মাঝি (নেতা) আজিম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আরসা সদস্যদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অভিযোগে আজিমকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আরেকটি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা বলেন, রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার পর আরসা সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসীরা সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখানোর জন্য ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করছে। মাঝেমধ্যে আরসা সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ছে। আবার আরসার সঙ্গে অন্যান্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক বলেন, আশ্রয়শিবিরের পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে শিবিরে অভিযান চলছে। শিবিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন