বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে কাঁচা আমের সালাদ বিক্রি করছিলেন রহমত আলী। কয়েকজন পর্যটক তাঁকে ঘিরে রেখেছেন। রহমত আলী সামনে বড় একটি পাত্র। তাতে থরে থরে কাঁচা আম সাজিয়ে রাখা হয়েছে। একেকটি আমের ওজন ৪৫০-৬০০ গ্রাম। আমের খোসা তুলে ভেতরের সাদা অংশ ছুরি দিয়ে কুচি কুচি করে কাটা হচ্ছে। এরপর বিট লবণ আর কাসুন্দি মিশিয়ে প্লেটে পরিবেশন করা হচ্ছে সালাদ। একটি আম দিয়ে এক প্লেট সালাদ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতি প্লেটের দাম ১০০ টাকা।

দাম কিছুটা বেশি হলেও মুখরোচক হওয়ায় পর্যটকেরা দেদারসে সালাদ কিনছেন। পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো সৈকতেই একই দামে সালাদ বিক্রি হচ্ছে। আর গরমে এ সালাদ প্রশান্তি দিচ্ছে বলে তাঁরা দামদর করছেন না।

default-image

সালাদ কিনতে এসেছেন চট্টগ্রামে রাউজানের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ। সঙ্গে স্ত্রী ও দুই কিশোরী মেয়ে। মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘গরমে কাঁচা আম খেতে বেশ ভালো লাগে। জুস, ভর্তা, সালাদ যেভাবেই হোক, কাঁচা আম পেটে গেলেই হলো। গরমের মধ্যে উন্মুক্ত সৈকতে সালাদ খেতে ভালোই লাগছে। তাই দাম নিয়ে খুব বেশি আপত্তি নেই।’

আম বিক্রেতা রহমত আলী বলেন, এক মাস আগে টেকনাফের বাজারে কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। তখন প্রতি কেজি আম সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখনো প্রতিটি আম গড়ে ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই তাঁরা ১০০ টাকায় সালাদ বিক্রি করছেন। সারা দিন সালাদ বিক্রি করে দেড় হাজার টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কলাতলী সৈকতের বিক্রেতা নবাব মিয়া বলেন, অশনির আগের সাত দিন প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। তখন আমের সালাদের ব্যাপক চাহিদা ছিল। বিশেষ করে নারী ও কিশোর-কিশোরীরা এ সালাদ পছন্দ করেন।

সৈকতের কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফ-উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিয়ানমারের বার্মিজ আমের চাষ হয়। মূলত এই আম দিয়ে সালাদ বানানো হচ্ছে। বার্মিজ জাতের আমের আঁশ কম, আঁটিও ছোট। তাই পাকার আগেই এই আমগুলো কেটে সালাদ কিংবা জুস বানিয়ে খাওয়া হয়। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বার্মিজ জাতের আম যত দিন গাছে থাকবে, তত দিন সৈকতে আমের সালাদ পাওয়া যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন