কক্সবাজার কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, সব মিলিয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ঈদের সাত দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসছেন অন্তত তিন লাখ পর্যটক। ইতিমধ্যে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল–মোটেলে ৪০-৫০ শতাংশ কক্ষভাড়া অগ্রিম বুকিং হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পর্যটক টানতে আমরা হোটেল-গেস্টহাউসের কক্ষভাড়ায় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছি। ধারণা করা হয়েছিল, সিলেটসহ দেশের উত্তরবঙ্গের ২০ জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, এসএসসি পরীক্ষা, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে এবারের ঈদের ছুটিতে ৬০-৭০ হাজারের বেশি পর্যটক পাবে না কক্সবাজার। এখন অনেকে অগ্রিম হোটেলকক্ষ ভাড়া না নিয়েই সৈকতে ছুটে আসছেন। এ জন্য হিসাবের তারতম্য দেখা দিচ্ছে।’

default-image

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ভ্রমণে আসা পর্যটকের নিরাপত্তা দিচ্ছেন দেড় শতাধিক ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য। পর্যটকেরা সৈকতে গোসলের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ দিয়ে দরিয়ানগর পর্যটনপল্লি, পাহাড়ি ঝরনার হিমছড়ি, পাথুরে সৈকত ইনানী ও পাটোয়ারটেক হয়ে সুদূর টেকনাফ সৈকত ঘুরতে যাচ্ছেন। সবখানে পর্যটকের নিরাপত্তা দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

হোটেলমালিকেরা জানান, গত ঈদুল ফিতরের ১০ দিনের ছুটিতে সৈকত ভ্রমণে এসেছিলেন ১১ লাখের বেশি পর্যটক। তখন হোটেল–মোটেল-রেস্তোরাঁ, দোকানপাট এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবসা হয়েছিল ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এবার ঈদুল আজহার সাত দিনের ছুটিতে চার লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটলে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

লোনা জলে দৌড়ঝাঁপ পর্যটকের

বেলা ১১টায় সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, অন্তত ১০ হাজার পর্যটকে ভরপুর সৈকত। সুগন্ধার উত্তর পাশে সিগাল, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টেও রয়েছে অন্তত ১২ হাজার পর্যটক।

সমুদ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠান সি–সেফের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা সময়ে সৈকতের কলাতলী থেকে শৈবাল পয়েন্ট পর্যন্ত চার কিলোমিটারে নেমেছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে পর্যটক ২৫-৩০ হাজার। বাকিরা স্থানীয় লোকজন। আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যটকের সমাগম বেড়ে তিন গুণ হতে পারে। এরপরের বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিনে প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। বিপুলসংখ্যক পর্যটক সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন লাইফগার্ডকর্মীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দুপুরে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে আসেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৫০)। প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে না পেরে তাঁরা প্রথমে কিটকটে বসেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা সৈকতের লোনাজলে নেমে শরীর ভেজান। মিজানুর রহমান বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন কয়েকজন করে মারা যাচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিও ভালো না। তাই আগেভাগে ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ছুটে এসেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার রাতের বাসে তাঁরা ঢাকায় ফিরে যাবেন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা কামরুল ইসলাম (৪৫) বলেন, সমুদ্রের টানেই তিনি স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে কক্সবাজার ছুটে এসেছেন। উঠেছেন কলাতলীর একটি হোটেলে। ৫০ শতাংশ হোটেল কক্ষভাড়া ছাড় পাওয়ায় আরও এক দিন বেশি থাকবেন জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, আগামীকাল দুপুরে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে টেকনাফ যাবেন। সেখানকার মিয়ানমার সীমান্ত, ঐতিহাসিক প্রেমকাহিনির মাথিনকূপ, নাফ নদের বুকে জেগে ওঠা জালিয়ারদিয়া, ন্যাচার পার্ক দেখে টেকনাফ থেকেই রাতের বাসে ঢাকায় ফিরে যাবেন তাঁরা।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, পর্যটকের আগমন দেখে খুশি হোটেলমালিক ও কর্মচারীরা। সিলেটসহ উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি, করোনার ঊর্ধ্বগতি, এসএসসি পরীক্ষা—সবকিছু মিলিয়ে এবার ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ৬০-৭০ হাজার পর্যটক আশা করা হয়েছিল। এখন তা বেড়ে চার–পাঁচ গুণে দাঁড়াচ্ছে। তাতে সৈকত এলাকার তিন হাজার দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্যে ফিরে এসেছে চাঙাভাব।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন