সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধর্মদা গ্রামে আমিরুন বেগমের বাড়ি। স্বামী শেখ শায়েস্তা মিয়া (৫৮) একজন কৃষক। তবে তাঁদের নিজেদের কোনো কৃষিজমি নেই। পরের জমিতেই চাষাবাদ করেন। শায়েস্তা-আমিরুনের দুই ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলেরা কৃষিকাজের পাশাপাশি দৈনিক মজুরিতে অন্যের বাড়ি কাজ করেন। বন্যার পানিতে চারদিক তলিয়ে যাওয়ায় তাঁদের কাজকর্মও বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পড়েছেন খাবারের সংকটেও।

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে মেঝেজুড়ে কাদামাটি, স্যাঁতসেঁতে। মাটির চুলা পানিতে তলিয়ে ভিজে-গলে নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে আছে। ছন আর মাটির বেড়ায় ছোটবড় অসংখ্য ফুটো। ভেজা মাটি থেকে অস্বস্তিকর দুর্গন্ধ নাকে আসে।

default-image

আমিরুন বেগম নিজের বিধ্বস্ত ঘরটি দেখাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুলা ডুবি যাওয়ায় রানতামও পারছি না, খাইতামও পারছি না। টাকা নাই, এখনো ঠিকমতো খাইতামই পারতাছি না। শুনছি, যারার ঘর পানি উঠি ভাসি গেছে, সরকার তারারে খাওনদাওন (ত্রাণ) দিতাছে। আমরা এক মুঠ চিড়াও পাইছি না। খাইতাম পারতাছি না, ঘর ঠিক করমু কেমনে? কুনদিন জানি ঘর ভাইঙা মাথাত পড়ে, চিন্তা কইরাও কূলকিনারা পাই না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন