করোনাভাইরাস সংক্রমণে ঠেকাতে সরকারের কঠোর লকডাউনের ঘোষণার পর রাজধানী ছাড়ছেন অনেকে। ফেরিতে ঠাসাঠাসি ভিড়ের কারণে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। আজ শনিবার দুপুরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
করোনাভাইরাস সংক্রমণে ঠেকাতে সরকারের কঠোর লকডাউনের ঘোষণার পর রাজধানী ছাড়ছেন অনেকে। ফেরিতে ঠাসাঠাসি ভিড়ের কারণে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। আজ শনিবার দুপুরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটেছবি: প্রথম আলো

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে সাত দিনের লকডাউনের পর পুনরায় কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর থেকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে অনেকে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষের ভিড়ে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে এখন ফেরিতে ঠাসাঠাসি অবস্থা। এতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটে অপেক্ষা করে দেখা যায়, ঘাটে যানবাহনের তেমন চাপ নেই। ফলে দৌলতদিয়ার অধিকাংশ ঘাট ছিল ফেরিশূন্য। শুধু ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটে ফেরিতে যানবাহন পারাপার হচ্ছিল। তবে পাটুরিয়া থেকে যে কটি ফেরি দৌলতদিয়ায় এসে ভেড়ে, তাতে মানুষের ঠাসাঠাসি পরিস্থিতি দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে মানুষের ভিড়ে ফেরিতে পা ফেলার জায়গা ছিল না। অনেকে রোদের মধ্যে খোলা ট্রাকেও গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন। ফেরিতে ওঠানামায় মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। অনেকের মুখে মাস্ক নেই, থাকলেও ঝুলছে থুতনির নিচে। এমন ঝুঁকিতে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছে।

default-image

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, যানবাহন তেমন না থাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে মাত্র ৯টি ফেরি চালু রাখা হয়। দুপুর থেকে যানবাহন ও মানুষের চাপ বাড়তে থাকলে ৯টি ফেরি দিয়ে পারাপারে হিমশিম খেতে হয়। কর্তৃপক্ষ বেলা ২টার দিকে ফেরিসংখ্যা আরও ৩টি বাড়িয়ে ১২টি করে। ফেরি বাড়ানোর পরও রাজধানী ছেড়ে আসা মানুষের ভিড় বাড়তে থাকায় ১২টি ফেরিতেও সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। যানবাহন বা যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়তে থাকলে বিকেল নাগাদ আরও ফেরি বাড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন

খোরশেদ আলম বলেন, দুপুর পর্যন্ত ঘাটে তেমন গাড়ির কোনো চাপ ছিল না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যেসব গাড়ি দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছেছে, তা দ্রুত ফেরিতে উঠে গেছে। কিন্তু বিপরীত দিকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। এই সপ্তাহের শেষ দিক থেকে সরকার লকডাউনের ব্যাপারে আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় মানুষ ঢাকার দিকে থাকতে চাচ্ছে না। যে কারণে প্রতিটি ফেরি মানুষে ভরপুর দেখা যাচ্ছে।

default-image

স্ত্রীকে সঙ্গে করে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশায় যাচ্ছিলেন বেসরকারি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। তাঁদের উভয়ের কাছে রয়েছে কয়েকটি লাগেজ। আলাপকালে আনোয়ার হোসেন বলেন, এমনিতে করোনা পরিস্থিতি ঢাকায় খুব খারাপ অবস্থা। এরপর এই সপ্তাহের শেষ দিকে সরকার লকডাউন আরও কড়াকড়ি করবে। যে কারণে সব ধরনের যানবাহন, এমনকি অফিসও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগেভাগে স্ত্রীকে লাগেজসহ গ্রামের বাড়ি রেখে আসছেন।

আনোয়ার হোসেন দম্পতি বলেন, ‘সারা রাস্তায় যেভাবে ঝক্কি-ঝামেলা করে এলাম, তাতে মনে হয় করোনা সঙ্গে করেই বাড়ি ফিরছি। এরপর ফেরিতে উঠে তো আরও ভয়ংকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের ঠাসাঠাসিতে কোথাও স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোর জায়গাটুকু নেই। নদী পাড়ি দিয়ে এলেও যানবাহন না থাকায় এখন তো পড়েছি আরেক বিপাকে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে অটোরিকশা ভাড়া করে রওনা হচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন