default-image

গান গেয়েই জীবন চলে ভ্রাম্যমাণ শিল্পী মো. আমিনুরের। বয়স ৫০ কি ৫৫ বছর হবে। বাড়ি নীলফামারী জেলায়। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। ডান হাতের আঙুলগুলো বাঁকা, বাম হাতের দু-একটি আঙুল ছোট। এই হাতেই দোতারা নিয়ে গান করে বেড়ান স্টেশনে স্টেশনে, এখান থেকে সেখানে। তাতে যে কয় টাকা পান, তাতেই চলে সংসার। ঘুরতে ঘুরতে গতকাল মঙ্গলবার এসেছিলেন গাজীপুরের টঙ্গীর বউবাজারের রেলসেতু এলাকায়। সেখানে তখন চলছিল তুরাগ নদে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ। আমিনুর খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে দেখলেন সে কাজ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যখন খননযন্ত্র দিয়ে নদীর মাঝ থেকে ময়লাগুলো তীরে আনছিল, তখন ভেসে আসছিল পলিথিন, ডাবের খোসা, কাগজ, ভাঙা কাচ, কাঠের টুকরাসহ নানা বর্জ্য। সেই সঙ্গে তুরাগের আলকাতরাকালো পানি থেকেছড়াচ্ছিল উৎকট গন্ধ।

আমিনুর নদের তীরে দাঁড়িয়ে তাঁর দোতারায় সুর তুললেন। বাদ্যের সঙ্গে কণ্ঠে ভেসে এল ‘তুরাগ নদীর কালো পানিরে ময়লা পুরোপুরি, তাকে খুঁড়ে সরকার পরিষ্কার করি, হায়রে তুরাগ নদের কালো পানি...। তুরাগ নদের কালো পানি দেখতে খারাপ লাগে, আশপাশের লোক, হ ভাইরে গোসল নিতে নাহি পারে, হায়রে তুরাগ নদীরে...।’ ততক্ষণে গান শুনতে তাঁর আশপাশে জড়ো হনবেশ কয়েকজন। আমিনুর এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গাইলেন তিন থেকে চারটি গান।

আমিনুর গানগুলো গাইছিলেন ভাওয়াইয়ার সুরে। গানের কথাগুলো তাৎক্ষণিক তৈরি বা তাঁর নিজের রচিত। দোতারার সুর আর তাঁর গাওয়ার যে ভঙ্গি, তাতে যোগ করে আলাদা সৌন্দর্য। আর এটি উপভোগ করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযান পরিচালনাকারী বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। কেউ কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন ভিডিও।

আমিনুর বলেন, ‘আমার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। সারা বাংলাদেশেই ঘুরে বেড়াই, গান করি। এই দিয়েই চলে সংসার। জীবনে বহু নদী দেখেছি। অনেক নদীতে গোসল করেছি, অনেক সময় নদীর পাড়ে ঘুমিয়েছি। কিন্তু এই নদীর মতো এত খারাপ অবস্থা আর কোথাও দেখিনি। দেখলেই মনে এক ধরনের মায়া জাগে। মনে হয় আমরা কতটা অভাগা। এত সুন্দর একটা নদী রেখেও যত্ন নিচ্ছি না। আর এ কারণেই দোতারায় সেই কথাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0