বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক মাস ধরে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক অসুস্থ হয়ে বাসায় ছিলেন। করোনার কারণে বাসায় রেখেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। বার্ধক্যজনিত সমস্যা ছাড়াও আগে থেকেই তাঁর হার্টে সমস্যা, ডায়াবেটিস ছিল। তাঁর শরীরে লবণের ঘাটতিও ছিল। করোনার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শমতো বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এ ছাড়া বাসাতেই তাঁর ইসিজি করানো হয়েছে। তিনি একবার পড়ে গিয়েছিলেন। সে জন্য এক্স-রে করানো হয়েছে। সেখানে হালকা ফ্র্যাকচার ধরা পড়েছে। এসব কারণে তিনি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন।

গত ১৬ আগস্ট ছেলে ইমতিয়াজ হাসানের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসান আজিজুল হকের অসুস্থতার কথা প্রথম জানা যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ২১ আগস্ট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

গত ১৬ আগস্ট তাঁর ছেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাঁর অসুস্থতার কথা প্রথম জানা যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ২১ আগস্ট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়, পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সেই দিন রাতে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। তাঁকে এই হাসপাতালে আনার পরদিন ২২ আগস্ট বিএসএমএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ আরাফাতকে প্রধান করে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই মেডিকেল বোর্ডের অধীনেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন। এরপর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে নগরের চৌদ্দপায় এলাকার আবাসিক এলাকায় বসবাস করে আসছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য হাসান আজিজুল হক ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৯ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন