বক্তব্যের শুরুতেই সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেব না। আর এখন কথা বলার ক্ষেত্রেও সাবধান হতে হয়। কোনো কোনো কথা স্লিপ অব টাং হয়ে যায়। সাংবাদিক ভাইয়েরা থাকেন। ওই কথাটাকে কোট করে সারা দেশ তোলপাড় করে ফেলেন। ওই কথার সামনের কথাও নাই, পেছনের কথাও নাই। আমি সেই প্রসঙ্গে যাব না।’

সাংসদ বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে আসলে আমাদের কথা বলার ক্ষেত্রে অবশ্যই অনেক সচেতন হতে হয়। যদিও মানুষমাত্রই একটা আবেগ কাজ করে, সমাজের মানুষের যখন কোনো প্রতিবাদের ঝড় আসে, তখন মানুষ হিসেবে সেটা আমার দিকেও আসে। সে ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ হয়ে বা অসাবধানতাবশত হয়তো অনেক কথাই মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়।’

অনুষ্ঠানের পর সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম সাংবাদিকদের কাছে দুই দিন আগের শোকসভায় দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। সাংসদ ইব্রাহিমের মতে, তিনি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্দেশে ওই বক্তৃতা দেননি। স্থানীয় লোকজনের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার লোকজনকে সচেতন হওয়ার কথা বলতে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের পিটিয়ে মারার কথা বলে ফেলেছেন। একজন সাংসদ হিসেবে তাঁর ওই কথা বলা ঠিক হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংসদ ইব্রাহিমের বক্তৃতার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যাতে সাংসদকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি হুকুম দিয়া দিচ্ছি, এই সমস্ত দুষ্কৃতকারীদের গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেললে কিছু হবে না। আপনারা যদি পারেন, আপনারা গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেন। যদি কেউ আসামি করে আমি মামলার ১ নম্বর আসামি হব, যে আমি হুকুম দিয়ে গেছি। এটা আমি আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম।’

সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম বলেন, ‘যদি পুলিশ না পারে, আমি আপনাদের বলে গেলাম, আপনারা এ সমস্ত দুষ্কৃতকারীদের, যারা সমাজের মানুষদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে, যারা সমাজের মানুষকে অত্যাচার করতেছে, তাদের আপনারা পিটিয়ে মেরে ফেলেন, কিছু হবে না। সেটার যদি আসামি হতে হয়, আসামি হব, আমি আপনাদের ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন