বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মনুরকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি আবুরকান্দি এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর কক্ষটির সামনে ‘মিউচুয়াল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট’ নাম দিয়ে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।

এনজিওর পরিচয় দিয়ে শুরু করেন কার্যক্রম। বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে উপজেলার আবুরকান্দি, দুর্গাপুর, মনুরকান্দিসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের ৯১ জনের কাছ থেকে ভুয়া রসিদের মাধ্যমে আমানত হিসেবে ১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। নিজেকে সংস্থাটির ব্যবস্থাপক পরিচয় দেন জহিরুল ইসলাম। তাঁর লোকজন মূল টাকার ২৫ শতাংশ লাভ (সুদ) দেওয়ার কথা বলে ওই গ্রাহকদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১০ এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করেন। গত শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ওই কার্যালয়ে আমানত আদায়ের কার্যক্রম চালিয়েছেন তাঁরা। শুক্রবার সন্ধ্যার পর কথিত সংস্থাটির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে জহিরুল ও তাঁর লোকজন আমানতের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেন।

আবুরকান্দি গ্রামের মানিক ব্যাপারী, তোফাজ্জল হোসেন, রশিদ প্রধানসহ একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তাঁরা ওই কার্যালয়ে আমানত হিসেবে এক লাখ টাকা জমা দেন। গত শনিবার সকালে ওই কার্যালয়ে দেখতে পান, সেটি তালাবদ্ধ এবং বাইরে টানানো সাইনবোর্ডও নেই। এরপর বহুবার ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করলে নম্বর বন্ধ পান। জহিরুলের দেওয়া ঢাকার কার্যালয়ের কয়েকটি মুঠোফোন নম্বরে ফোন করলে সেগুলোও বন্ধ পাওয়া যায়।

দুর্গাপুর গ্রামের রুবেল হোসেনের অভিযোগ, গত জুলাই মাসে বেশি লাভের আশায় জহিরুলের কাছে তিনি ৩০ হাজার টাকা আমানত হিসেবে জমা দেন। সে সময় বলা হয়, তিন বছর পর লাভসহ ৫০ হাজারের বেশি টাকা দেওয়া হবে। রসিদের মাধ্যমে ওই টাকা তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে লাভ ও আসল টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়ার কথাও বলা হয়। এখন বুঝতে পারছেন, তিনিসহ অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন। এলাকার ৯১ জনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন জহিরুল ও তাঁর লোকজন। ধারদেনা করে ওই টাকা জোগাড় করেছিলেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বরে আজ রোববার দুপুরে একাধিকবার কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ওই নামে তাঁর উপজেলায় কোনো এনজিও নেই। এটি ভুয়া। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ বা মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন