বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তাঁদের দলের নাম চৈতালী ব্যান্ড দল। দলের প্রধান সায়মন আহমদ (৪০) প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন বিভিন্ন আয়োজনে ব্যান্ড পার্টিকে ডাকতে হবে, মানুষ তেমনটি মনে করেন না। তবে একসময় গেছে যখন সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বড় আয়োজন হলেই আমাদের ডাকা হতো। এখন আর তেমনটি নেই। এমন অবস্থায় টিকে থাকা আমাদের জন্য বেশ কষ্টকর। অনেকেই পেশা ছেড়ে অন্য পথ দেখছেন।’ তিনি বলেন, বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে এবং কিছু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়া তাঁদের ডাক পড়ে না। বিয়ের মৌসুমে কিছু আয় হলেও অন্য সময় অনেকটা বেকার কাটাতে হয়। সে সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তায় দিন কাটে।

দলের হয়ে বাঁশিতে সুর তোলেন দিবস বাউরি (৪০) নামের এক সদস্য। চা–শ্রমিক সম্প্রদায়ের এ যুবক বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্যান্ড পার্টির সদস্য হিসেবে কাজ করি। বিয়ের অনুষ্ঠান হলে তিন থেকে চার ঘণ্টা বাজিয়ে ৫০০ টাকা পাই। এ ছাড়া ছোট অনুষ্ঠানগুলোতে কম টাকা দেওয়া হয়। এগুলো দিয়ে সংসার চলানোর উপায় নেই।’ তিনি বলেন, আগে দিনে দুই থেকে তিনটি পর্যন্ত অনুষ্ঠানে বাজাতে পারতেন। এখন তেমন ডাক পড়ে না। এ জন্য আয়ও কমেছে।

বাদকদলের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কোনো আয়োজনে ডাক পড়লে মূলত দলের সদস্য কতজন থাকবেন এর ওপর টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। কোনো ক্ষেত্রে তিনজন আবার ক্ষেত্রবিশেষে ১০-১২ জন বাদকদলের ডাক পড়ে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় সদস্যের সমন্বয়ে দলের ডাক পড়ে। পাঁচ সদস্যের দল দুই থেকে তিন ঘণ্টার কোনো আয়োজনে দৈনিক তিন থেকে চার হাজার টাকা নেন। আবার বিয়ের ক্ষেত্রে দুই দিন কিংবা তিন দিনব্যাপী আয়োজন হলে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার চুক্তি করেন।

বারুতখানা এলাকার ব্যবসায়ী ইমন আহমদ (৫০) বলেন, ‘এখন আর ব্যান্ড পার্টির কদর নেই। ছোটবেলায় ব্যান্ড দলের বাজনার আওয়াজ শুনলে দৌড়ে গিয়ে দেখতাম। তাদের বাজানো বাজনা শুনতাম। এখন কোনো আয়োজন হলে বড় বড় সাউন্ডবক্সের দখলে চলে যায়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন