বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে গোলাম কুদ্দুসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাজেদা আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। সাজেদার স্বামী গোলাম কুদ্দুস ওমানপ্রবাসী।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ১০ দিন আগে গোলাম কুদ্দুস ওমান থেকে দেশে ফেরেন। এরপর গত বুধবার রাতে সাজেদার সঙ্গে কুদ্দুসের ঝগড়া হয়। এর জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাজেদা ছেলে নুর মোহাম্মদকে ডেকে বিষ খেতে বললে সে রাজি হয়নি। পরে সাজেদা তাঁর মেয়েকে বিষপান করান এবং পরে নিজেও বিষপান করেন।

গতকাল রাতে গ্রেপ্তারের আগে গোলাম কুদ্দুসের ভাই গোলাম সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ওই সময় সাজেদা ছেলে নুর মোহাম্মদকেও বিষপান করানোর চেষ্টা করেন। নুর মোহাম্মদ বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের বলে দেয়। এতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

বিষপানের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে জান্নাতুলকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সাজেদা আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফেনীতে তিনি মারা যান।

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম প্রথম আলোকে বলেন, কবিরহাট উপজেলা থেকে জান্নাতুল মাওয়া নামের পাঁচ বছরের একটি শিশুকে বিষপানের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে শিশুটি বিষপান করেই মারা গেছে কি না, সেটি ময়নাতদন্তের আগে বলা যাবে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত সাজেদার লাশ বাড়ি থেকে এবং তাঁর মেয়ে জান্নাতুল মাওয়ার লাশ নোয়াখালীর হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে নিহত সাজেদার বাবা মমিনুল হকের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ নেই। মমিনুল হকও দাবি করেছেন, মেয়েকে বিষপান করিয়ে সাজেদা নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় সাজেদার স্বামী ও দেবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন