default-image

অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরস্রষ্টা ও কবি গৌড় গোস্বামী। ৮২ বছর বয়সের মানুষটি অনেক গান রচনা করে সুরেলা কণ্ঠে গেয়ে দর্শক-শ্রোতার মন জয় করেছেন। যিনি গৌড় সাধু ও চারণকবি হিসেবে পরিচিত। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় তিনি এখন ঘরে পড়ে আছেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিশম্ভ কবিরাজ পাড়ার কুঞ্জলাল রায় ও রঙ্গদেবী দম্পতির সন্তান গৌড় গোস্বামী। বর্তমানে তিনি গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে অর্থকষ্টে জীবন যাপন করছেন।
আলাপকালে কবি গৌড় গোস্বামী জানান, প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি কীর্তন গান করছেন। পদাবলি ও অষ্টকালীন গান গেয়ে হাজারো দর্শকের মন জয় করেছেন। ৬ হাজার ৭৬৫টি পালাগান গেয়েছেন তিনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভারতে ঠাঁই নেওয়া শরণার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সাহস জোগাতে বাহাদুরপুর কল্যাণী ক্যাম্পে থেকে গান রচনা করেছেন। পরে কীর্তনীয়া দল গঠন করে সেই গান তাঁদের গেয়ে শুনিয়ে উজ্জীবিত রেখেছেন। তাঁর রচিত গানগুলোর মধ্যে ‘আয় রে তোরা বাংলা দেখতে যাই, রবিঠাকুরের সোনার বাংলা জ্বলে পুড়ে হলো ছাই, আয় রে তোরা বাংলা দেখতে যাই’ গানটি বেশ প্রচলিত।

বিজ্ঞাপন

কবি গৌড় গোস্বামীর বন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, গৌড় সাধু পদাবলি কীর্তন করে একসময় হাজারো মানুষের মন কেড়ে নিয়েছেন। তাঁর মধুর কণ্ঠে ও সুরে ভক্তকুলের হৃদয়ে জাগে পার্থিব জগতের পবিত্র ভাবনা। তাঁর সুর ও ছন্দে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মনমাঝারে উন্মাদনার ঢেউ জাগে। সুরের মূর্ছনায় আত্মহারা হয়ে যেতেন আসরের ভক্তকুল। অগণিত দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করা এমন গুণী শিল্পী আজ যেন জীবনযুদ্ধে পরাজিত সৈনিক। অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে না। ফেলে আসা স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা ভেবেই তাঁর চোখে ঝরে শুধু অশ্রু। এমন একজন গুণী মানুষের জন্য কারও যেন কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যিনি সব সময় হাজারো মানুষের ভিড়ে থেকে সবার মধ্যমণি হয়ে থাকতেন, আজ তাঁর দুঃখের দিনে কেউ পাশে নেই। অসুস্থ অবস্থায় ঘরে একা একা সময় কাটান। কখন দিন আসে কখন রাত হয়, টেরও পান না। আলো-আঁধারিতে বসে তিনি যেন মরণের দিন গুনছেন।

গৌড় গোস্বামীর স্ত্রীর পূর্ণিমা রানী রায় বলেন, তাঁর স্বামী করোনার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে জ্বর হয়, প্রাথমিক চিকিৎসায় জ্বর ভালো হয়নি। ধীরে ধীরে শরীর ও পেট ফুলে যায়। পরে পরীক্ষায় তাঁর লিভারে পানি জমেছে বলে চিকিৎসকেরা জানান। একমাত্র ছেলে গোবিন্দ রায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর চিকিৎসা করাতে সমাজের হৃদয়বান মানুষকে আর্থিক সহায়তায় করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গৌড় গোস্বামীকে সাহায্য করতে—বিশ্বাস আইটি ওয়ার্ল্ড, হিসাব নম্বর: ২০৫০৭৭৭০১০২৮৪৮৩১৪, ইসলামী ব্যাংক, গোয়ালন্দ এজেন্ট শাখা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0