বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নির্বাচন নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে বারহাট্টা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মনোরঞ্জন সরকারের কাশবন এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় মনোরঞ্জন সরকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের সমর্থক ও বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেনসহ তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই দিন বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে কবি নির্মলেন্দু গুণ ফেসবুকে ‘কবি নির্মলেন্দু গুণের আহ্বান’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন।

দীর্ঘ স্ট্যাটাসটি চার দফায় সম্পাদনা করা হয়। ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে সর্বশেষ সম্পাদিত স্ট্যাটাসে কবি লেখেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা মনে হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চাইছে। তাই যেখানে পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, সেখানে জনসমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঠছাড়া করার জন্য তারা প্রতিপক্ষের ওপর প্রকাশ্যে হামলা করছে। আমার নিজ উপজেলা থেকে পাওয়া এ রকম চিত্রই সারা দেশের চিত্র কি না জানি না। হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হয়। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা আমার উপজেলায় অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।’

কবির এই লেখাকে কেন্দ্র করে বারহাট্টার বাসিন্দা মোহন শেখ ও শাহ পল্লব নামের দুই ব্যক্তি ‘গুরুজনের ঘোড়া কাব্য’ শিরোনামে একই স্ট্যাটাস তাঁদের নিজ নিজ আইডি থেকে পোস্ট করেন। পরে এর স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়।

শুক্রবারের মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়েছে, মোহন শেখ ও শাহ পল্লবের স্ট্যাটাসে কবিকে হেয় প্রতিপন্ন করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। এমন মন্তব্যকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান কবির অনুসারীরা।

ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন কবির গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান কাশবন বিদ্যানিকেতন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক নারায়ণ কিশোর সরকার, সহকারী শিক্ষক ফককর উদ্দিন সরকার, কাশবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর দেবনাথ, প্রধান শিক্ষক শান্তনা দত্ত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক শহীদুর রহমান, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আমিরুন্নাহার খানম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কবি নির্মলেন্দু গুণের খ্যাতি রয়েছে। তিনি গোটা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের সম্পদ। যিনি বা যাঁরা নির্মলেন্দু গুণ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়াচ্ছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হোক।

১১ নভেম্বর বারহাট্টায় সাতটি ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন