default-image

কবুতরের বাচ্চা বাঁচাতে ভৈরব নদে নেমে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর কার্গোশ্রমিক রকিবুল ইসলামের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে বাগেরহাট শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভৈবর নদের মুনিগঞ্জ এলাকায় কার্গোর কাছে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

নিহত রকিবুল ইসলাম মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে। তিনি এমভি প্রগতি গ্রিনলাইন-১ কার্গোর শ্রমিক ছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মুনিগঞ্জ ঘাট এলাকায় নোঙর করা এমভি প্রগতি গ্রিনলাইন-১ নামক জাহাজ থেকে নদে পড়ে যাওয়া কবুতরের বাচ্চা উদ্ধার করতে নেমে নিখোঁজ হন রকিবুল। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে শুক্রবার সকাল থেকে আবারও তাঁর সন্ধান শুরু হয়।

তিন দিন আগে গম নিয়ে বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ ঘাটে ভিড়ে এমভি প্রগতি গ্রিনলাইন–১ নামের ওই কার্গোটি।

বিজ্ঞাপন

কার্গোর অন্য শ্রমিকেরা বলেন, রকিবুল কার্গে কবুতর পালতেন। সেই পোষা কবুতরের একটি বাচ্চা ভৈরব নদে পড়ে গেলে তিনি তা তুলতে নামেন। কবুতরটি তুলে কূলে ফেরার সময় জোয়ারের স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যান রকিবুল। এ সময় অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে সাহায্য করতে বয়া ফেললেও তিনি তা ধরতে পারেননি।

নিখোঁজের খবর পেয়ে বাড়ি থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রকিবুলের চাচা লিটন শেখ। তাঁর দাবি, জাহাজের অন্য শ্রমিক-কর্মচারী সবার সামনে রকিবুল নদে নেমে পড়েন। জাহাজে থাকা অন্য শ্রমিকেরা চেষ্টা করলে তিনি বেঁচে যেতেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের গাফিলতি খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা শরীফ আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজের সন্ধানে ডুবুরি দলসহ উদ্ধার অভিযান শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু প্রচণ্ড স্রোত ও নদীর গভীরতা বেশি থাকায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন