দাকোপ উপজেলা বিচ্ছিন্ন তিনটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। দ্বীপ তিনটি ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার নামে পরিচিত। একটি পোল্ডার থেকে অন্য পোল্ডারে যেতে হলে ওই এলাকার মানুষের নদী পার হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য এখনো পর্যন্ত একমাত্র ভরসা খেয়ানৌকা। সেতুটি হলে ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য গতি পাবে। ৩২ নম্বর পোল্ডারে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন এবং ৩৩ নম্বর পোল্ডারে রয়েছে দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) খুলনা জেলা ও দাকোপ উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩০১ দশমিক ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের জুন মাসে।

খুলনার দাকোপের কালীনগর জিসি-খুটাখালী জিসি রাস্তায় শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ভদ্রা নদীর ওপর এ সেতু নির্মাণের কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিটিএসএল-মৈত্রী (প্রা.) লিমিটেড। নির্মাণের জন্য ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার চুক্তির হয়। ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যে নির্মাণকাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও আনুপাতিক হারে কাজের ভৌত অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করে এলজিইডি। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কাজের সময় বাড়ান। পরে আদালত আবারও ৩০ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত সময় বাড়ান। তারপরও কাজ শেষ না হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করে জরিমানা করা হয়।

এরপর ২০২০ সালের মে মাসে অসমাপ্ত কাজের জন্য ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকার নতুন চুক্তি হয় বরিশালের মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে। সেই কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। তারপরও দুই দফা সময় বাড়িয়ে কাজ শেষ করা যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মোরশেদ আলম বলেন, নির্মাণসামগ্রীর কোনো ত্রুটি ছিল না। নকশার ভুলে এমনটি হয়েছে। ভূমি থেকে সাধারণত এত উঁচুতে রিটেইনিং ওয়াল করা যায় না। সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ একটু কম হওয়ায় সেতু থেকে নামার সংযোগ সড়কটি কিছুটা আড়াআড়ি হয়েছে। কাজ এখন বন্ধ আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন