বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে প্রথম দরপত্রে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যে সেতুটির গার্ডার, স্প্যান ও দুই পাশের সম্মুখভাগে পার্শ্ব দেয়াল নির্মাণের কার্যাদেশ পায় মের্সাস মামুন কনস্ট্রাকশন। পরে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২০ সালের প্রথম দিকে সেতুটির গার্ডার নির্মাণকাজ শেষ করে। কিন্তু সেতুর দুই সম্মুখ ভাগের পার্শ্ব দেয়াল আজও নির্মাণ করেনি। অথচ কার্যাদেশে কাজ শেষের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের জুনে।

পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় দরপত্রে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির স্লাব বিম ও রেলিং নির্মাণে কার্যাদেশ পায় নুর ইসলাম এন্টারপ্রাইজ নামে আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কার্যাদেশ পাওয়ার এক বছর পেরোলেও ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেনি। অথচ গত বছরের জুনে ওই কাজ শেষ করার কথা ছিল।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ওই নদীর ওই স্থানে নির্মাণাধীন সেতুর পিলারগুলো দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় লোকজন বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

মোস্তারপাড় গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ২০১৫ সালে মরা তিস্তা নদীর পূর্বপাড়ের বাসিন্দা জরিনা বেগম গর্ভবতী অবস্থায় রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি ভরপুর থাকায় পার হতে না পেরে নদীর কিনারায় তিনি মারা যান। এরপর নদীর ওই স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো হলে সেখানে তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মরা তিস্তা নদীর ওপর সেতু হবে। এ স্বপ্নের ভিত্তি দেওয়া হলেও কাজ থেমে গেছে। স্বপ্ন পূরণ কবে হবে, সেটা বুঝতে পারছি না।

মায়ারচর গ্রামের শিক্ষিত যুবক ইমরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চরাঞ্চলের মানুষ। বিভিন্ন কষ্টে আমাদের দিন চলে। নদীর ওপরে সেতুটা হলে উৎপাদিত যেকোনো পণ্য সহজে আমরা উপজেলা সদরে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারব। পাশাপাশি শিক্ষা–চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগিতাও আমরা সহজে পাব।’

পল্লীমারী গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে উপজেলা সদরের বাজারে নিতে না পারায় আমাদের কম দামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়।

চরচতুরা গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, চলাফেরা, হাটে পণ্য আনা-নেওয়ায় অনেক কষ্ট হয়। অসুস্থ রোগীকে সময়মতো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

ওই পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান বলেন, শুনেছি নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

হারাগাছ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মর্তুজা এলাহী বলেন, যেহেতু পৌর অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না। তাই উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে দুই অর্থবছরে পৃথক দরপত্রের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে প্রথম দরপত্রে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক অসুস্থ থাকায় সেতুটির ২০ ভাগ নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে। দ্বিতীয় দরপত্রে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেতুর বাকি কাজ শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

হারাগাছ পৌরসভার মেয়র এরশাদুল হক বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রত শেষ করার বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্বিতীয় দরপত্রের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শুরু না করলে কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে নতুন দরপত্র আহবান করে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন