বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোবাশ্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা এখন পদ ছাড়া নেতা। এই নিয়ে বিব্রত হতে হয়। আশা কেবল দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের।’

কেমন চলছে ছাত্রলীগ? এমন প্রশ্নে রুবেল চন্দ্রের মন্তব্য, ‘অনুষ্ঠান করছি, হয়েও যাচ্ছে। সমস্যা হলো পরিচয় সংকট।’ একই প্রশ্নে লুৎফর রহমান জানান, কমিটিবিহীন সংগঠনের ভীত শক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি হয় ২০১৩ সালের ১৪ অক্টোবর। ৬১ সদস্যের কমিটির মো. কায়কোবাদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আল সাকী। কাছাকাছি সময়ে রাজু আহমেদকে সভাপতি ও মো. অপুকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় পৌর ছাত্রলীগ।

সেই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন আবুল হোসেন। ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর পদটিতে আসেন ইমতিয়াজ বিন মুছা। ইমতিয়াজ হলেন আবুল হোসেনের আপন ভাতিজা। নেতৃত্ব নিয়ে চাচা–ভাতিজার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। দ্বন্দ্ব প্রভাব পড়ে অঙ্গসংগঠনেও। ছাত্রলীগের দুটি কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশির ভাগ নেতাকে আবুল হোসেনের অনুগত ভাবা হতো। একপর্যায়ে উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বর্তমানে একটি অংশ ইমতিয়াজ বিন মুছার অনুগত হয়ে সংগঠন পরিচালনা করছে। অপর ছোট একটি অংশ আছে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে। কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে দুই পক্ষের দাবি অভিন্ন হলেও তাঁদের কাছ থেকে কেবল হচ্ছে, হবে শব্দ শোনা ছাড়া আর বিশেষ কিছু পাচ্ছে না। পদ পেতে চান, এই রকম অন্তত শতাধিক কর্মী এখন সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ বিয়ে করে একাধিক সন্তানের বাবাও হয়ে গেছেন। তারপরও ছাত্রলীগের পদ–পরিচয় জুটেনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মো. কায়কোবাদ। বিভক্ত রাজনীতির অংশ হওয়ার কারণে তিনি এখন অনেকটা বিচ্ছিন্ন। তবে কিছু অনুগত নিয়ে এখনো পৃথকভাবে ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালন করছেন। কমিটি না হওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমার সার্থকতা হলো নতুনদের কাছে নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তবেই এই পাট শেষ করা। কিন্তু আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আবার এই ব্যর্থতা নিয়ে ফিরতে চাই না। এ কারণে মাঠে আছি।’

বিলুপ্ত পৌর কমিটির সভাপতি রাজু আহমেদও একই মন্তব্য করেন।

একাধিক সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেতৃত্বের এই দৈন্যতা নিয়ে আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা বিব্রত। অজ্ঞাত কারণে এ নিয়ে কেউ খুব বেশি মুখ খুলছেন না। তবে এই কথা সত্য, নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রায় সবাই।

বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এই কথা ঠিক আমরা এখন কর্মীদের ‘হচ্ছে, হবে’ ছাড়া আর কোনো আশ্বাস দিতে পারছি না।’

দীর্ঘ সময় ধরে কমিটি শূন্য করে রাখার কারণ জানতে আজ শুক্রবার মুঠোফোনে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি করে তবেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির দিকে এগোব।’

কুলিয়ারচর ছাত্রলীগের অচলাবস্থা নিরসনে কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না জানতে কথা হয় কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, কমিটি করার জন্য এরই মধ্যে আবেদনপত্র চাওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা বাস্তবতার কারণে সেটি এগোনো যাচ্ছে না। তবে তাঁর প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন তিনি। কারণ, দ্রুত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় রয়েছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন