বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর কুমড়াখালী শশীভূষণ উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপা কমিটির সভাপতি হিসেবে শিক্ষা বোর্ড জয়ন্তী রানীর নাম অনুমোদন দেওয়া হয়। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে কিরণ শংকর রায়ও ছিলেন। তবে মামলার আসামি থাকায় তিনি আর নির্বাচন করতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর অনুসারী ফণীভূষণ সিংহ, বিনয় ভূষণ, দীপক কুমার রায়সহ একটি সংঘবদ্ধ দল গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে ষষ্ঠ, অষ্টম ও দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নিতে বাধা দেয়। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগেও বৃহস্পতিবার তাদের বাধায় বার্ষিক পরীক্ষা নিতে পারেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে উপজেলা প্রশাসন গতকাল পরীক্ষা গ্রহণের আশ্বাস দিলে সে অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই তিন শ্রেণির পরীক্ষার আয়োজন করে। তবে গতকাল আবারও তারা পরীক্ষা নিতে বাধা দেয় এবং প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে প্রধান শিক্ষক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশের সহায়তায় বেতাগীর ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন।

প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিরণ শংকর রায়ের অনুসারীরা একের পর এক টালবাহানা শুরু করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় ফণীভূষণ সিংহ, বিনয় ভূষণ ও দীপক কুমার রায়ের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল এসে বিদ্যালয়ের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জয়ন্তী রানী বলেন, ‘স্থানীয় সাংসদ শওকত হাচানুর রহমানের ইন্ধনে কিরণ শংকর রায় ও তাঁর লোকজন পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। কারণ, কিরণ শংকরকে বিদ্যালয়ের সভাপতি করার জন্য সাংসদ ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিরণ সভাপতি না হওয়ায় সাংসদ তাদের দিয়ে এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কেন ওই বিদ্যালয়ে এসব করাব। বিদ্যালয়ের ঝামেলা ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে চলছে। এই বিদ্যালয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক বহিষ্কার হয়েছেন। এটা শিক্ষকদের বিষয়, এর মধ্যে আমাকে জড়ানো ঠিক না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন