বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আজ সকালে ঘুরে দেখা যায়, ৭৫ শয্যার বিপরীতে করোনা পজিটিভ রোগী আছেন ১ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ১৩ জন। রোগীর চাপ না থাকায় নার্সরাও একটি কক্ষে বসে গল্প করছেন। রোগীর স্বজনদের কেউ ডাকলে তাঁরা সাড়া দিচ্ছেন।

এম আবদুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামাল আক্তার বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়া–কমার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব একটা স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি আছে। তবে মাস চারেক আগে যখন করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, সেই সময় থেকে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন হয়েছে বলেই করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমেছে।

এ জেলায় প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত বছর ১৪ এপ্রিল। আজ শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় ৭৫ হাজার ৫৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৪৯০ জনের, অর্থাৎ শনাক্তের হার ১৯ শতাংশ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮৭ জনের। তবে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজারের বেশি মানুষের। আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫১ জন। সুস্থতার হার ৯৮ শতাংশ।

গত ৪ মাসের করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। জুন মাসে ৭ হাজার ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৬২ জন শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ওই মাসে মৃত্যু হয় ৪৩ জনের। জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৯৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হন ৪ হাজার ১৯১ জন। শনাক্তের হার ২৬ শতাংশ। জুলাই মাসে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। আগস্ট মাসে ৮ হাজার ৫৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৫৬৮ জন শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ১৮ শতাংশ। আগস্টে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। সেখানে চলতি মাসের ১৭ দিনে ৩ হাজার ২৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ২৭৩ জন। শনাক্তের হার ৮ শতাংশ। আর মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক পারভেজ সোহেল রানা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে চলা কঠোর বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কারণে সংক্রমণ কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ টিকার আওতায় এসেছেন। মানুষের সচেতনতাসহ সবকিছু মিলিয়ে করোনা সংক্রমণের হার কমেছে। তবে এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। কেননা, গত বছরও ঠিক এই সময় করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে আসছে। সংক্রমণ আমাদের এখানেও বাড়তে পারে। সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও টিকা গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন