সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে কম্বল ও শাল বিতরন করছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। আজ সোমবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের হালডোবা গ্রামে
সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে কম্বল ও শাল বিতরন করছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। আজ সোমবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের হালডোবা গ্রামে প্রথম আলো

জমিলা বেগমের বয়স ষাটের কোটায়। স্বামী থাকলেও তিনি ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত। তীব্র শীতে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটছিল তাঁর। আজ সোমবার তিনি এসেছিলেন গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের হালডোবা গ্রামে ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন চত্বরে। সেখানে তিনি পেয়েছেন কম্বল ও শাল। প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতায় সেগুলো নিজ হাতে তুলে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

কম্বল ও শাল বিতরণ হবে জেনে আজ সকাল থেকেই ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন চত্বরে এসে উপস্থিত হন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক নারী-পুরুষ। সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব রেখে সবার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে কম্বল ও শীতের শাল। শীতবস্ত্রগুলো পেয়ে সবার মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ বিমানের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খান, প্রকল্প সমন্বয়ক খাইরুল ইসলাম, সহকারী সমন্বয়ক জাকিয়া সুলতানা ও নির্বাহী সদস্য এনায়েত হোসেন খান প্রমুখ।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের মেয়ে ফারিয়া লারার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন’ মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মাত্র ২৮ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রশিক্ষক বৈমানিক ফরিয়া নিহত হন।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের মেয়ে ফারিয়া লারার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন’ মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে। ফারিয়া লারা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রশিক্ষক বৈমানিক। ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি নিহত হন। পরে তাঁর স্মরণে ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

সেলিনা হোসেন বলেন, ‘এই শীতবস্ত্র হলো আপনাদের জন্য ভালোবাসা। এ ভালোবাসা আপনাদের জন্য সব সময় থাকবে। আমাদের এই সংস্থা আছে বলেই আমরা এগুলো দেওয়ার সুযোগ পাই। পরিবেশ রক্ষার জন্য গত সপ্তাহে গাজীপুরের মির্জাপুরে ১০০টি গাছ লাগিয়েছি। এর মাধ্যমে আমাদের যারা ছোট প্রজন্ম আছে, তারা সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারবে। সুন্দরভাবে দেশকে গঠন করতে পারবে।’

শীতবস্ত্র নিতে আসা রাজেন্দ্রপুরের নয়াপাড়া গ্রামের হাবিবা বেগম (৫০) বলেন, ‘এইবার শীত যাইব গা। আরামে ঘুমাইতে পারমু পোলাপান লইয়া।’ হালডোবা থেকে এসেছিলেন হাজেরা খাতুন (৫২)। তিনি বলেন, ‘খুব কষ্টে আছিলাম এই কয় দিন। এখন কম্বল আর চাদর পাইছি। শীতে আর কষ্ট করন লাগব না।’ বামনগাঁও গ্রামের মফিজ উদ্দিন (৫৫) এসেছিলেন তাঁর সাত বছর বয়সী নাতিকে সঙ্গে নিয়ে। কম্বল ও শাল পেয়ে দাদা-নাতি মহাখুশি। তিনি বলছিলেন, ‘কম্বলের লগে শাল দেওনে কামডা ভালা অইছে। কয়েক শীত কাইটা যাইব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন