বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের প্রতি বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের অভাব, অভিযোগ, আবেদন, নিবেদন শোনেন। গত বুধবার গণশুনানিতে শতাধিক মানুষ তাঁদের কথা জেলা প্রশাসককে শোনান। সে সময় কেউ কেউ চাকরি, কেউ চিকিৎসার খরচ, কম্বল ও আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। অনেকে পরের জমিতে বসবাস করার কষ্টের কথা জানান।

এ সময় আম্বিয়া খাতুনও তাঁর কষ্টের কথা বলেন। জেলা প্রশাসক অসহায়দের ঘর ও জমি দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তিনি সদর উপজেলা ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে সেই সব অসহায় মানুষকে মুজিব শতবর্ষের ঘরে থাকতে প্রস্তাব দেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ২৫ জন ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘরের চাবি তুলে জেলা প্রশাসক। তাঁদের মধ্যে অসহায় ও ভূমিহীন আম্বিয়া খাতুনও আছেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান প্রমুখ।

ঘর পেয়ে আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘পরের জায়গায়ত কষ্ট করি আছু। বৃষ্টির দিনত কষ্ট আরও বাড়ি যায়। এলা কঠিন শীত করচে। তাই ডিসি স্যারের কাছে একখান কম্বলের তানে গেছিনু। স্যার মোর কথা শুনিয়া এখান ঘর দিবা চাহিল। মুই সেলা (তখন) বিশ্বাস করিবা পারুনি। এইঠে আসিয়া দেখিনু মোরতানে একখান ঘর রেডি করে রাখিছে। মুই আর কী কহিম। গেছিনু কম্বল চাহিবা, পানু একখান পাকা ঘর।’

আম্বিয়ার মতো ঘর পেয়েছেন শ্যামলী রানী (৫৫)। তিনি বলেন, ‘আমি মরার আগে বিল্ডিং ঘরে শুইয়া যাইতে পারমু, জীবনেও ভাবি নাই। যারা আমাকে ঘর দিল, ভগবান যেন তাদের ভালো করে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কেউ গৃহহীন থাকবেন না—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা সেটা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। গণশুনানিতে আসা অনেকের মুখে যখন শুনলাম, তাঁদের থাকার মতো নিজস্ব ঘর নেই। তখন প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণার কথা মনে পড়ে গেল। এসব অসহায় মানুষগুলো মুজিব শতবর্ষের ঘর পাওয়ার সুযোগ থাকায়, আজ নিজেই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তাঁদের বুঝিয়ে দিলাম।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন