অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, দেশের ৬২টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত ৫১৬ শিক্ষার্থীর ওপর অনলাইনে জরিপ চালায়। জরিপ চালানো হয় ২০২০-২১ সালে। এ জরিপের ওপর ভিত্তি করে ‘ডিপ্রেশন অ্যান্ড স্ট্রেস রিগার্ডিং ফিউচার ক্যারিয়ার অ্যামং ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ডিউরিং কোভিড-১৯ প্যানডেমিক’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রবন্ধ লেখা হয়। এটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভুগছেন। মহামারির কারণে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তাহীনতাই তাঁদের হতাশার মূল কারণ। শিক্ষার্থীরা বিষণ্নতা ও মানসিক চাপে থাকার কারণে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁদের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয়, তাঁরা বাকি শিক্ষার্থীদের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম বিষণ্নতা ও মানসিক চাপে ভুগছেন।

শিক্ষার্থীদের হতাশার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ আছে বলে গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্নাতক সম্পন্ন করতে দেরি হওয়া, উপযুক্ত চাকরি পাওয়ার জন্য দক্ষতার অভাব, স্টার্ট-আপ পরিকল্পনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টার্নশিপ সুবিধা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষার্থীদের হতাশা দূর করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও ইন্টার্নশিপ প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতি রোধ করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা প্রয়োজন বলে গবেষণায় মতামত দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন