বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীদের কথা চিন্তা করে পাটলী ইউনিয়নের প্রবাসীদের উদ্যোগে পাটলী বেসরকারি হাসপাতালে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করা হয়। এসব অক্সিজেন সিলিন্ডার করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পরামর্শে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য শুরুতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে এগিয়ে আসেন এই সাত তরুণ। উপজেলার সীমান্তবর্তী ঝিগলী গ্রামে এক মুমূর্ষু করোনা রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শে অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের মানবিক কার্যক্রম শুরু হয়। এখন দিনরাত উপজেলার নানা প্রান্তে খবর পেলেই মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে তাঁরা হাজির হচ্ছেন। তাঁদের কার্যক্রমের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলাব্যাপী। শুধু অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়াই নয়, নিজেদের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকার নিবন্ধন করে দিচ্ছেন। গণটিকা কার্যক্রমেও স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয়ক জুহের আহমেদ চৌধুরী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁরা কাজগুলো করছেন। সাত বন্ধু নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন।

স্বেচ্ছাসেবক জুনেদ আহমেদ তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এক বৃদ্ধ নারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর ছেলেমেয়ে সবাই প্রবাসে। করোনার খবর পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে অক্সিজেন সেবা দেওয়ার পর তিনি অনেকটা সুস্থ বোধ করেন। করোনাকালে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারায় তাঁরা তৃপ্ত।

পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বলেন, ওই তরুণেরা শুধু অক্সিজেন সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেননি, তাঁরা করোনার শুরু থেকে হতদরিদ্রদের খুঁজে খুঁজে সরকারি–বেসরকারি খাদ্যসহায়তা ঘরে পৌঁছে দেওয়াসহ সামাজিক ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধুসূধন ধর বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশে মানবিক কাজে দাঁড়িয়ে ওই সাত তরুণ মানবসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। উপজেলার নানা প্রান্তে স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে তাঁরা করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত এলাকার কমপক্ষে ২০ জন রোগীকে তাঁরা এ সেবা দিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে সুস্থ করে তুলেছেন। তাঁদের কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, করোনাকালে মানবিক কাজে ওই তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তাঁদের সফলতা কামনা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন