default-image

করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য খুলনা সদর (জেনারেল) হাসপাতালের চতুর্থ তলায় তৈরি করা হয়েছিল ৪২ শয্যার করোনা ইউনিট। ওই ৪২ শয্যার মধ্যে ১২টি ছিল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ)। কিন্তু ওই ইউনিটে যাওয়ার বিকল্প পথ না থাকায় সেখান থেকে আইসিইউ শয্যা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ওই ইউনিটে যাওয়ার জন্য আলাদা কোনো পথ নেই। এ কারণে সাধারণ সিঁড়ি দিয়ে করোনা রোগী ইউনিটে নিতে গেলে পুরো হাসপাতালে কোভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা না করে ওই ইউনিট তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

গত বছর যখন করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকে, তখন ৪২ শয্যার ওই ইউনিট প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। গত মাসে ইউনিটটি যখন প্রায় প্রস্তুত, তখন সেখানে রোগী নেওয়ার ব্যাপারটি সবার মাথায় আসে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সেটা জানানো হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আইসিইউ শয্যা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে আইসিইউ সরঞ্জাম সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

জানতে চাইলে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মুরাদ হোসেন বলেন, ইউনিটটি প্রায় প্রস্তুত, তবে বেড নেই। এর বাইরে কোনো কথা বলতে তিনি রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

খুলনা সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ হলেন ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের সিভিল সার্জনের সময় ইউনিটটির কাজ শুরু হয়। তিনি এসে দেখেন ওই ইউনিটে রোগী নেওয়ার জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কয়েক শ সাধারণ রোগী ভর্তি থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে একই সিঁড়ি দিয়ে করোনা রোগী আনা-নেওয়া করলে পুরো হাসপাতালে করোনা ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাপারটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পর্যবেক্ষণ করে আইসিইউ শয্যা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়।

খুলনা জেলা কোভিড প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, আগে কীভাবে, কেন সেখানে আইসিইউসহ করোনা ইউনিট করা হয়েছিল, তা বলা মুশকিল। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে মনে হচ্ছে, পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল। এখন ওই হাসপাতাল থেকে আইসিইউ সরিয়ে এনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে ১০০ শয্যার করোনা ইউনিটে এখন ২০টি আইসিইউ শয্যা থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন