default-image

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ–ইনস্টিটিউটের ক্লাস ও পরীক্ষা ১১ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে৷ ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত থাকবে৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অন্যান্য কার্যক্রম যথারীতি চলবে।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়-সংলগ্ন আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

সকাল ১০ টা থেকে এই বৈঠক শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের চেয়ারম্যান, অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-চিকিৎসাকেন্দ্র-শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ও গ্রন্থাগারের কর্মকর্তারা। সভা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়-সংলগ্ন লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য।

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ সময় পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। পরীক্ষার তারিখ আবার নির্ধারণ করবেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। এতে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং, অ্যাওয়ারনেস, মোটিভেশন ও সর্বোপরি প্যানিক মিটিগেশন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলোও সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। কারণ কেননা সোশ্যাল ডিসটেন্সিংটা খুবই জরুরি৷

উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বড় আকারের সোশ্যাল গ্যাদারিং অ্যাভয়েড করার নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ সবার প্রতি আমাদের আহ্বান, সোশ্যাল এটিকেট মেইনটেইন করুন, শিষ্টাচার-আচরণে সেটি অনুসরণ করুন। এগুলো যেন আমরা সবাই গভীর মাত্রায় অনুসরণ করি৷ শিষ্টাচারি জীবনধারা অনুসরণ করতে পারলে অনেক রিস্ক মিটিগেট হয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং কমানোর উদ্যোগ হিসেবে অ্যাওয়ারনেস, এনকারেজমেন্ট এবং সর্বোপরি প্যানিক মিটিগেশন করার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। সব কার্যক্রমই চলবে, শুধু ক্লাস আর পরীক্ষা কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হলো।

ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ফলে এর প্রভাবও অবশ্যই পড়বে। জীববিজ্ঞান ও ফার্মেসি অনুষদের বিভাগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে, যে যেভাবে পারি, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আমাদের গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করি, যাতে এ ধরনের প্যানডেমিক ম্যানেজ করার জন্য জাতিকে আমরা আরও কিছু পরামর্শ দিতে পারি। গবেষণার এই ক্ষেত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় কাজ।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় স্বার্থের যেভাবে প্রয়োজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবেই রেসপন্স করবে ও সিদ্ধান্ত নেবে।’
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন