default-image

কুমিল্লা নগরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় ও বাদুড়তলা এলাকা ঘিরে নৈসর্গিক দৃষ্টিনন্দন ধর্মসাগর দিঘির অবস্থান। ওই দিঘির পশ্চিম পাড়ে হাঁটার রাস্তা। উত্তর পাড়ে নানা প্রজাতির গাছগাছালি। এই অংশের পূর্ব দিকে নগর শিশু উদ্যানে শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইড ও খেলাধুলার সরঞ্জাম।

তবে করোনার প্রকোপে গত ১৭ মার্চ থেকে কুমিল্লা নগর শিশু উদ্যান বন্ধ। এতে রাইড স্থাপনকারীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে ঋণের জালে বন্দী।

বিজ্ঞাপন

নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগর উদ্যানের পূর্বাংশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। তারপর সেখানে বিনোদনের জন্য একে একে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ধরনের রাইড ও খেলাধুলার সরঞ্জাম। কুমিল্লা নগরে শিশুদের বিনোদনের কোনো জায়গা না থাকার কারণে প্রায় প্রতিদিনই সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকত।

default-image

নগর শিশু উদ্যানের দক্ষিণ পাশে ম্যাজিক বোট, পাশেই শান্তা মারিয়া ঘোড়ার রাইড, এর লাগোয়া অংশে বিভিন্ন প্রাণীর কংক্রিটের তৈরি মূর্তি ও তার পাশে চারটা দোলনা। দক্ষিণ পশ্চিমাংশে রেললাইন ও ট্রেন, পশ্চিমাংশে নাইন ডি সিনেমা, উত্তর পাশে চারটা দোলনা, চারটা স্লিপার, মেরি গো রাইড ও টিনশেডের টিকিট কাটার ছোট ঘর, বিমান রাইড, ঘোড়ার রাইড, ঘূর্ণি, রোলার কোস্টার ও ছাতা।

বিজ্ঞাপন

আজ রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, রাইডগুলোর কোনোটি লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা, কোনোটি মোটা দড়ি দিয়ে আটকানো, কোনোটিতে জং ধরেছে। রাইডের ফাঁকে ফাঁকে সবুজ গাছের পাতায় ভাদ্র মাসের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটা লেপ্টে আছে। সেখানে জনমানব নেই। একধরনের সুনসান নীরবতা।

উদ্যান এলাকার বাসিন্দা কলেজশিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, একসময় মা–বাবার সঙ্গে শিশুদের উপস্থিতিতে এই উদ্যান মুখর থাকত। প্রাণচাঞ্চল্য ছিল। এখন করোনার কারণে প্রাণের স্পন্দন নেই।

নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন রাইডের জন্য ১৩ ব্যক্তিকে বার্ষিক ইজারা দিয়েছে। এর মধ্যে ১০টি রাইড থেকে আয় করেছে আড়াই লাখ টাকা।

একটি রাইডের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান বলেন, ‘ঋণ করে রাইড দিয়েছি। ৭ মার্চ থেকে উদ্যানটি বন্ধ রয়েছে। এক টাকা আয় নেই। অথচ কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে। আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেশির ভাগ লোকই ঋণ করে রাইড দিয়েছেন। টাকা তো উঠছে না। সবাই ঋণের জালে বন্দী।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবু সায়েম ভূঁইয়া বলেন, করোনার কারণে পার্ক ও উদ্যান বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব খুলে দেওয়া হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘এই উদ্যানে স্থাপন করা রাইডের মালিকেরা আমাদের কাছে উদ্যান খুলে দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। আমরা বলেছি, সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা করলে উদ্যান খুলে দেওয়া হবে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর্থিক ক্ষতি করোনাকালে কমবেশি সবারই হচ্ছে। প্রকৃতির বিষয়টি মেনেই আমাদের চলতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন