করোনায় ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা সংকটে

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফটোকপির দোকান চালান আল হেলাল। শিক্ষার্থীদের নোট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কপি করেই তাঁর সংসার চলে। করোনা সংক্রমণের পর থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ। ফলে পাঁচ মাস ধরে তাঁর আয়ের পথও বন্ধ। আল হেলাল বলেন, তিনি যে কী ধরনের কষ্টে আছেন, তা আর কাকে বলবেন। তাঁদের আয়ের আর কোনো রাস্তা নেই, কারও কাছে হাত পাততেও পারছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে তাঁর এই সংকট আরও বাড়বে।

পাঁচ মাস ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন আল হেলালের মতো দুই শতাধিক ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দোকানপাট খুলতে না দেওয়ায় এ সময়ের মধ্যে দোকানের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আর্থিকভাবে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় গত ১৭ মার্চ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৮ মার্চ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হলসহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ১৮ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা কয়েক শ দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্পাসের ভেতরে খাবার হোটেল, ফটোকপি, কম্পোজ, বাইন্ডিংসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিক্রির প্রায় ২০০ দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এই ব্যবসায়ীদের আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে জীবিকা চালানো এই মানুষদের জীবন থমকে গেছে।

রোববার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় জনশূন্য ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনসহ অন্য ভবনগুলো সীমিত পরিসরে খুলেছে। এই ভবনগুলোর প্রধান ফটকের সামনে অলস সময় পার করছেন প্রহরীরা। স্টেডিয়াম মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, কিছু লোক এক জায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছেন। তাঁরা মূলত স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকানদার। তাঁদের কেউ ফটোকপির দোকান চালান, কেউ কম্পোজ করেন, কেউ বই বাইন্ডিং করেন, কেউ ছবি তোলেন, কেউবা বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিক্রি করেন। তাঁরা প্রতিদিন দুপুর ১২টার দিকে এসে তাঁদের দোকান দেখে যান।

স্টেডিয়াম মার্কেটের ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, ‘এই মার্কেটে দোকান চালানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি নির্দিষ্ট টাকা ভাড়া দিতে হয়। এই ভাড়াটা যদি মওকুফ করে দিত, তাহলে বলতে পারতাম প্রশাসন কিছু করল।’

default-image

স্টেডিয়াম মার্কেট সমিতির সম্পাদক রতন কুমার বলেন, তাঁরা গত রমজানের ঈদের আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে দেড় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। তারপর আর কেউ তাঁদের খোঁজ নেননি। এখন তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, যদি তারা দোকানভাড়া মওকুফসহ কিছু করে। এ বিষয়ে তাঁরা আবেদন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সবচেয়ে বেশি কম্পিউটার–সংশ্লিষ্ট কাজকর্ম চলে। এখানে প্রায় ৫০টি দোকান রয়েছে। এই মার্কেটের সভাপতি জাহিদ হাসান জানান, গত চার মাস বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দোকান খুলতে দেয়নি। এ অবস্থায় তাঁদের অধিকাংশ কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ড নষ্ট হয়ে গেছে। প্রিন্ট করার মেশিনও নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে কিছুটা শিথিল করায় তাঁরা কয়েক দিন ধরে দোকান খুলছেন। তিনি আরও জানান, তাঁদের যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা আর কোনোভাবে পূরণ হবে না। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকে তিনিও তাকিয়ে আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্র উপদেষ্টা মো. লুৎফর রহমান বলেন, করোনার কারণে ক্যাম্পাসের পাশাপাশি দোকানপাটও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শুরুতে কড়াকড়ি থাকলেও এখন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীই এখন দোকান খুলছেন। তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করলে নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের জন্য কিছু করবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন