default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গণপরিবহন চালু হলে স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানা যাবে, শুরুতে তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বাসে যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না। দূরপাল্লার পথে মাত্র এক–চতুর্থাংশ বাস চলছে। এমনকি রাজধানীতেও বাস চলাচল এখনো অনেকটাই সীমিত। পরিবহনমালিকেরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেক বাস চলছে রাজধানীতে।

৬৭ দিন বন্ধ থাকার পর ১ জুন থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বাস–মিনিবাস চালু হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, প্রতিটি বাসে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চালাতে হবে। তবে যাত্রী কম বলে স্বাস্থ্যবিধির এই কড়াকড়ি না মানার মতো পরিস্থিতিই তৈরি হয়নি। অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখার শর্তের কারণে সরকার বাসের ভাড়াও ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে। তবে রাজধানীতে বাসে এর চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে।

ভয়-আতঙ্কের কারণে মানুষ যাতায়াত করছে না, এটা তো সবারই জানা। তবে দূরের পথে যাত্রী কমে যাওয়ার পেছনে পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা আরও কিছু সুনির্দিষ্ট কারণের কথা বলছেন। এগুলো হচ্ছে, পুরোদমে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু না হওয়া। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত না থাকা। সরকারি-বেসরকারি অফিসে চাকরিজীবীদের উপস্থিতি কমে যাওয়া। শ্রমজীবী মানুষের যাতায়াতও কম। ভারত ভ্রমণ বন্ধ থাকায় সড়কপথে যোগাযোগ কমে গেছে।

জানতে চাইলে সোহাগ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী ফারুক তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, এখন বাস চালালে যত লোকসান হয়, বসিয়ে রাখলে এর চেয়ে কম লোকসান হবে। এসি বাসের চলাচল প্রায় বন্ধ। নন-এসি বাসও ২৫ শতাংশের বেশি চলে না। চালক-শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে বাস চালু রেখেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, মানুষের কোনো নড়াচড়াই যেন নেই। আসলে মানুষের ভয় কাটছে না।

>

পর্যটন ও ভারত ভ্রমণ বন্ধের প্রভাব পড়েছে। শ্রমজীবীদের যাতায়াত কমেছে। নারী যাত্রী নেই বললেই চলে।

সড়কের মতোই রেলপথেও যাত্রী কম থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচল করা বিরতিহীন সোনার বাংলা এবং ঢাকা-নোয়াখালী পথের উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল গতকাল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে আট জোড়া ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর ৩ জুন আরও ১১ জোড়া ট্রেন যুক্ত হয়। প্রতিটি ট্রেনের অর্ধেক আসনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সেই অর্ধেক আসনেরও গড়ে সাড়ে ১৪ শতাংশ ফাঁকা থাকছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্র বলছে, স্বাভাবিক সময়ে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড়ে চার হাজার বাসের ট্রিপ বা যাতায়াত (স্বল্প দূরত্বে এক বাস একাধিকবার চলে) করে। এখন তা হাজারখানেক ট্রিপে নেমে এসেছে। তা–ও সব যাত্রায় বাসের অর্ধেক আসনও পূর্ণ হচ্ছে না। দূরপাল্লার পথে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসসেবা প্রায় বন্ধই রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ শতাংশের বেশি বাস চলছে না।

ঢাকা-সাভারের পথে চলা ঠিকানা পরিবহনের চালক আসলাম মিয়া বলেন, নারী যাত্রী তো একেবারেই নেই। পুরুষদের মধ্যেও যুবক শ্রেণির যাত্রীই বেশি। বয়স্করাও বাসে তেমন উঠছেন না।

পরিবহনমালিক–শ্রমিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, সারা দেশের বিপণিবিতান ও বড় ব্যবসাকেন্দ্রগুলো এখনো পুরোদমে চালু হয়নি। এগুলো চালু থাকলে দূর–দূরান্তের মানুষ ঢাকা থেকে মালামাল সংগ্রহ কিংবা অন্য ব্যবসায়িক কাজে আসতেন। একইভাবে ঢাকার ব্যবসায়ী বা তাঁদের প্রতিনিধিরা জেলা–উপজেলায় ব্যবসায়িক কাজে ভ্রমণ করতেন। এখন এ ধরনের যাতায়াত প্রায় বন্ধ। বিলাসবহুল এসি ও নন–এসি বাসের একটা বড় অংশ পর্যটন শহরগুলোতে চলাচল করে থাকে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ। এ ছাড়া প্রতিবছর কয়েক লাখ লোক সড়কপথে ভারতে যাতায়াত করেন। এখন তা বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা–উত্তরবঙ্গের পথের এস আর পরিবহনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জুন–জুলাইয়ের গরমে এসি বাসের টিকিটের হাহাকার থাকে। এখন যাত্রীর অভাবে তাঁদের এসি বন্ধ আছে। ২৫ শতাংশের মতো বাস চলছে এখন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0