বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বিনা মূল্যে সবজি বিতরণ করার কারণ জানতে চাইলে শাহ কামাল বলেন, ‘মানুষকে খাওয়ানো আমার শখ। করোনাকালের শুরুতে একবার সবজির দাম বেড়ে গিয়েছিল। সংক্রমণ এড়াতে বাজারটাকেও নিয়ে যাওয়া হলো গোড়-এ-শহীদ ময়দানে। আমি যে জিনিসগুলো দিচ্ছি, সেগুলো হয়তো দামে কম। কিন্তু অনেকে আছেন ১৫-২০ টাকা ভাড়া খরচ করে সবজি কিনতে যান। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের কিছুটা হলেও উপকার হচ্ছে।’

শাহ কামাল আরও বলেন, ‘তাঁর মতো অন্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় এই সেবা চালু করা উচিত। কারণ, করোনায় অনেকের অবস্থা নাজুক। সেটা নিজেকে দিয়েও তো বিচার করতে পারি। অবশ্য এ কাজে অনেকেই আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই কাজে একধরনের আনন্দ আছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহ কামালের দোকান ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই সবজি নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী, অটোরিকশাচালক, দরজি, নৈশপ্রহরী, পাহারাদারসহ বিভিন্ন পেশার নিম্ন আয়ের মানুষ রয়েছেন। নিয়ম মেনে এখান থেকে শাকসবজি সংগ্রহ করতে হয়।

এ বিষয়ে শাহ কামাল বলেন, এখান থেকে একজন শাক নিতে পারবেন যেকোনো এক পদের। সবজি নিতে পারবেন এক পদের। লেবু দুটি, কাঁচা মরিচ পরিমাণমতো। অনেক সময় শাহ কামাল নিজেই দোকান থেকে উঠে আসছেন। সবজি তুলে দিচ্ছেন ব্যাগের মধ্যে।

default-image

শাহ কামালের দোকানে সবজি নিতে এসেছেন রাজবাটি এলাকার অটোরিকশাচালক জীবন রহমান। তিনি জানালেন, ‘আমার এলাকার একজনের কাছে শুনেছি এখানে সবজি বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। এসে দেখি ঘটনা সত্য। সবজি নিতে চাইলে আমাকে তুলে নিতে বলেন শাহ কামাল। আমি ডাঁটাশাক, কাঁচা মরিচ ও শসা নিয়েছি।’  

করোনাকালের শুরু থেকেই এখান থেকে শাকসবজি নিয়ে যান নুরজাহান মার্কেটের দোকান কর্মচারী রতন সাহা। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিন তিনি এখান থেকে শাকসবজি নিয়ে যান। একেক দিন একেক রকমের সবজি এখানে থাকে। কোনো দিন আলু, কোনো দিন বেগুন আবার কোনো দিন লাউ দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী শাহ কামালের এই উদ্যোগের বিষয়ে দিনাজপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবদুল্লাহ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাহ কামালের এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। করোনাকালে অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কয়েক দিন আগে আমি জানতে পেরেছি। এ সময় সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন