বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে হাসপাতালে ভর্তির এক দিন পরই করোনায় আক্রান্ত স্বামী আহাম্মেদ আলী (৬৭) মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর এ খবর এখনো জানেন না রহিমা। সন্তান রাজিবের কাছে বাবার খবর জানতে চান তিনি। কিন্তু কষ্ট পেতে পারেন, এই ভেবে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আজও জানাননি রাজিব। বাবা ঢাকায় চিকিৎসাধীন জানিয়ে মাকে সান্ত্বনা দেন তিনি।
রাজিবদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর এলাকায়। তাঁরা দুই ভাই–বোন। বোন মুনিয়া আহাম্মেদসহ তিনি ইতালিপ্রবাসী। দুই ভাই–বোনের পরিবারের ইতালির গ্রিন কার্ড রয়েছে। কুষ্টিয়াতেও রাজিবের ব্যবসা রয়েছে। ২০১৮ সালে বাড়িতে আসার পর করোনা শুরু হলে তিনি আর ইতালি যাননি।

চলতি বছরের ২৮ জুলাই তাঁর মা–বাবা দুজনই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেন। কিন্তু ৪ আগস্ট আহাম্মেদ আলীর শরীরে জ্বর আসে। করোনা পরীক্ষা করে পজিটিভ হলে সেদিনই তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এদিকে ৬ আগস্ট রহিমা খাতুনও পজিটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মুখোমুখি দুটি বিছানায় স্বামী–স্ত্রী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

৭ আগস্ট হঠাৎই মারা যান আহাম্মেদ আলী। এ সময় রহিমার অবস্থা ভালো না হওয়ায় ছেলে রাজিব কৌশলে বাবার লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফন করেন। মাকে জানান, বাবাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে নেওয়া হয়েছে। ভিডিও কলে কথা বলতে চান মা, কিন্তু সমস্যা হতে পারে, এ জন্য কৌশলে এড়িয়ে চলেন।

এরপর একে একে দুটি মাস পার হয়ে গেল। বাবার মৃত্যুর খবর আজও জানেন না মা রহিমা, জানালেন রাজিব। তিনি বলেন, এই দুই মাসে মায়ের অনেক জটিলতা দেখা দেয়। ডায়রিয়াও হয়েছিল। এই হাসপাতালে করোনা প্রতিরোধে যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ চিকিৎসকেরা কাজে লাগিয়েছেন। ওয়ার্ডে ৩৪ বেডের জায়গায় এমনও হয়েছে, ৭০ জন রোগীতে ঠাসা ছিল।

চোখের সামনে প্রতিদিন ১০–এর অধিক রোগীকে মারা যেতে দেখেছেন। কিন্তু একপলকের জন্যও মায়ের আড়াল হননি। করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক। ওয়ার্ডে মাত্র ১৫ জন রোগী। একটি কক্ষে যেখানে গড়ে ১৫ জন রোগী ছিলেন, সেখানে বর্তমানে তাঁর মা একাই চিকিৎসাধীন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ এস এম মুসা কবির প্রথম আলোকে বলেন, রহিমার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাঁকে সব রকম চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। করোনাকালে এই হাসপাতালে টানা দুই মাস ধরে চিকিৎসা নেওয়া একমাত্র রোগী তিনি। আশা করা যাচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন