বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে কথা হয় রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে। এ সময় দেখা যায়, চল্লিশোর্ধ্ব একজন পুরুষ রোগী বিছানায় বসা। বিছানায় তাঁর বাঁ পাশে বসা দুই নারী। সঙ্গে লাগোয়া পাশের বিছানায় রোগীর মুখোমুখি বসা তিন নারী। আরও তিনজন দাঁড়ানো। এক রোগীকে ঘিরে আছেন আটজন স্বজন। পাশের বিছানায় আরেক রোগীর ডান ও বাঁ পাশে দুই নারী বসা। পরের বিছানায় এক পুরুষ শ্বাসকষ্টের রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে মাথা টিপে দিচ্ছেন স্ত্রী। পায়ের কাছে বিছানায় বসা এক পুরুষ, দাঁড়িয়ে আছেন আরেক স্বজন।

নারী রোগী ও তাঁর স্বজনেরা জানাচ্ছেন নানা অস্বস্তি ও বিব্রত পরিস্থিতির কথা। নারী রোগীদের নিরাপত্তা আর স্বস্তির কথা চিন্তা করেও থাকছেন একাধিক স্বজন। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায় একই চিত্র।

এ সময় ৫৭ বছর বয়সী একজন রোগীকে সেবা করতে দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে। কথা বলে জানা গেল, ওই শিক্ষার্থী সকালে বাড়ি থেকে এসেছেন। তিনি ও তাঁর মা পালা করে দিনে ও রাতে এ রোগীর কাছে থাকেন এবং বাড়িতে যান। তাঁরা গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। ওষুধ ও খাবার কিনতে বা অন্য প্রয়োজনে তাঁরা বাজারেও যাচ্ছেন।

নড়াইল শহরের বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত এক নারীর (৩৫) স্বামী বলেন, তিনি একাই স্ত্রীর সঙ্গে থেকে সেবা করছেন। বাইরে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। ওষুধ ও খাবার আনতে বাইরে যাচ্ছেন। বাসায়ও যাচ্ছেন।

এভাবে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অবাধে ঢুকছেন ও বাইরে যাচ্ছেন স্বজনেরা। এখানে সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। নেই করোনা রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনের উদ্যোগ। এতে হাসপাতাল থেকেই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বাড়ছে আরও বড় মাত্রায় সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকিও।

default-image

এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য তিনটি করোনা ওয়ার্ডে ৬০টি শয্যা ছাড়াও আছে কেন্দ্রীয় অক্সিজেনের ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সেখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাই এ হাসপাতালে পুরো জেলা থেকে শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের ভিড় বাড়ছে। ইতিমধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

কয়েকজন রোগীর স্বজন ও করোনা ইউনিটের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছিলেন, এই তিনটি ওয়ার্ডেই নারী ও পুরুষ রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা যেত। করোনা ইউনিটে অবাধে প্রবেশ বন্ধ করা খুবই সহজ। রোগীর সঙ্গে একজন থাকবেন, তিনি বাইরে বের হতে পারবেন না। অন্য স্বজনেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা ইউনিটের সামনে এসে রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার বা অন্য জিনিসপত্র রেখে যাবেন। এটি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের একটু সদিচ্ছা ও উদ্যোগের ব্যাপারমাত্র।

এসব বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) এ এফ এম মশিউর রহমান বলেন, সমস্যা আছে, চেষ্টা করা হচ্ছে সর্বোচ্চ। অবাধে ঢোকা বন্ধ করবে কে? দুজন আনসার সদস্য ডিউটি করছেন। কিছু কিছু রোগী আছেন একা চলতে পারেন না। তাঁদের সঙ্গে একজন থাকতে হয়। তাঁদের বাইরে যাওয়ার কথা নয়। নারী ও পুরুষের পৃথক ইউনিট করার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, হাসপাতালে জায়গার স্বল্পতার কারণে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ইউনিট করা যাচ্ছে না। নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন