বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে খুলনার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন চিকিৎসক নিয়াজ মোহাম্মদ। ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও তিনি। যোগদান করার পর জানতে পারেন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকেরা সিভিল সার্জনের নাম করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। গত এপ্রিলে ব্যাপারটি প্রমাণিত হওয়ার পর ওই হাসপাতাল থেকে কোভিড পরীক্ষার কাজ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের বাদ দেওয়া হয়। আর বিদেশগামীদের কোভিড পরীক্ষার মূল দায়িত্বে থাকা প্রকাশ কুমারের কাছে সব পরীক্ষার তথ্য ও হিসাব চাওয়া হয়। তবে হিসাব জমা দিতে গড়িমসি করছিলেন তিনি।

প্রতিদিনই কোভিড পরীক্ষার টাকা হিসাব শাখায় জমা দিতেন প্রকাশ কুমার। তবে তা যে সেবাগ্রহীতার চেয়ে কম, তা কেউ বুঝতে পারেননি।

সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে দেখা যায়, প্রকাশ কুমারের জমা দেওয়া টাকার সঙ্গে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার অসংগতি রয়েছে। পরদিন প্রকাশ কুমারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠি দেন সিভিল সার্জন। গত বৃহস্পতিবার ওই টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল।

হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে এসে বিভিন্ন হিসাব নিয়ে বসেন প্রকাশ কুমার। দুপুরের দিকে হঠাৎ বোনের মারা যাওয়ার কথা বলে অফিস থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে আর তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত তিন দিন অফিসে আসেননি তিনি। বাসায় খোঁজ নিলেও সেখান থেকে জানানো হয়েছে তাঁরা প্রকাশ কুমারের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাঁরা বলেন, প্রতিদিনই কোভিড পরীক্ষার টাকা হিসাব শাখায় জমা দিতেন প্রকাশ কুমার। তবে তা যে সেবাগ্রহীতার চেয়ে কম, তা কেউ বুঝতে পারেননি। প্রতিদিন জমা দেওয়ায় ব্যাপারটি নিয়ে কারও কোনো সন্দেহও হয়নি।

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও প্রকাশ কুমারকে না পেয়ে খুলনা সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি (প্রকাশ) যেন দেশত্যাগ করে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন