default-image

সিলেটে প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ কোনো ফলাফল না এসে অনির্ধারিত ফল পাওয়া যাচ্ছে। গত তিন দিনে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৫৮ জন প্রবাসীর করোনার নমুনা পরীক্ষায় অনির্ধারিত ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে বিপাকে পড়ছেন প্রবাসীরা।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারনির্ধারিত নিয়মে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে বিদেশে গমনেচ্ছু বিমানের যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রবাসীদের টিকিট সংগ্রহের পর বিমানে ওঠার কমপক্ষে তিন দিন আগে করোনা পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’  ফলাফল নির্ধারিত বিমান কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হয়। নমুনার ফলাফল ‘নেগেটিভ’ এলে তাঁদের বিমানে ওঠার অনুমতি মেলে। সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের স্বার্থে গত ২৪ জুলাই থেকে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রবাসীরা নমুনা দেওয়ার আগের দিন নিবন্ধন করে পরদিন নমুনা দিতে আসেন। এর এক দিন পর পান করোনা পরীক্ষার ফলাফল। এসব নমুনা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
অনির্ধারিত ফল আসা ব্যক্তিদের বিশেষ ব্যবস্থায় ফের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত ফলাফল নির্ণয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সঠিকভাবে পাওয়া গেছে।  কিন্তু গত তিন দিনে প্রবাসীদের নমুনা পরীক্ষায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত রোববার নমুনা পরীক্ষায় ৬ জন, পরদিন আবার ১৩ জন এবং গতকাল মঙ্গলবার ৩৯ জনের অনির্ধারিত ফল আসে। তবে অনির্ধারিত ফল আসা ব্যক্তিদের বিশেষ ব্যবস্থায় ফের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত ফলাফল নির্ণয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ।

করোনার নমুনা পরীক্ষায় এমন ফলাফল আসায় প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রাহিম চৌধুরী বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার আমি এবং আমার দুলাভাইয়ের যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা রয়েছে। এখন শুনছি, সিলেটের করোনা পরীক্ষাগারে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য ঢাকায় পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন ধরে নমুনা পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হয়নি। তিন দিন ধরে নমুনা পরীক্ষার অনির্ধারিত ফল আসছে। এতে আমাদের বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে একাধিকবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হচ্ছে। এতে আমাদের সময় ব্যয় হচ্ছে।’

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং সিলেটে করোনা শনাক্তকরণ কমিটির চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রবাসী ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নমুনা পরীক্ষা করছি। সেগুলোতে এমন সমস্যা হচ্ছে না। শুধু প্রবাসীদের নমুনা পরীক্ষায় এমন ফলাফল আসছে। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে, করোনা পরীক্ষার যন্ত্রে কোনো সমস্যা নেই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন