এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন ভবনের জন্য শহীদ মিনারটি ভাঙার বিষয়ে ঠিকাদার আমাকে জানিয়েছিলেন। আমি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে রেজল্যুশন করে তাকে জানাব বলেছিলাম। ঠিকাদার রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই শহীদ মিনার ভাঙা হয়েছে। ওই ঠিকাদার সম্ভবত অন্য কোনো সাব–ঠিকাদারকে নির্মাণকাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি (ঠিকাদার) এখন অনুতপ্ত।’

মো. ফরহাদ আহমেদ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আবার নতুন করে সেখানে শহীদ মিনার স্থাপন করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবদুল লতিফ বলেন, ‘শহীদ মিনার ভাঙার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। এসে দেখি এটা ভাঙা হয়েছে।’

default-image

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রনি মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুই তলা ভবন নির্মাণের জন্য ৩৬ ফুট জায়গা দরকার। কিন্তু বিদ্যালয়ে জায়গা ৩১ ফুট রয়েছে। নতুন করে ভবন নির্মাণ করতে হলে বিদ্যালয়ের পুরোনো শহীদ মিনারটি ভাঙতে হতো। তবে বিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদার নতুন করে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও রেজল্যুশন ছাড়া শহীদ মিনার ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। তবে ঠিকাদার বলেছেন, ভেকু দিয়ে বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার সময় শহীদ মিনারটি ভাঙা পড়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ করতে গেলেও শহীদ মিনার ভাঙতে হবে। ঠিকাদার নতুন করে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন