কর্মকর্তাদের তটস্থ করে রাখা সেই অফিস সহায়ক বরখাস্ত

বিজ্ঞাপন
default-image

খুলনায় আঞ্চলিক তথ্য অফিসে দাপট দেখিয়ে কর্মকর্তাদের তটস্থ করে রাখা সেই অফিস সহায়ক মো. হাবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অসদাচরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক কার্যালয় আদেশে মো. হাবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ম. জাভেদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৬ আগস্ট প্রথম আলোতে মো. হাবিবুর রহমানকে নিয়ে ‘অফিস সহায়কের দাপটে তটস্থ কর্মকর্তারা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বরখাস্ত করার ওই আদেশে বলা হয়েছে, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের অফিস সহায়ক মো. হাবিবুর রহমান ২০১৯ সালের ৯ জুন সদর দপ্তর থেকে বদলি হয়ে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি বারবার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি প্রায়ই অশ্লীল ভাষায় এবং উচ্চস্বরে গালাগালসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে আঘাত করতে উদ্যত হন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখান এবং বদলির হুমকি দেন।

১৩ আগস্ট অফিসের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ শুরুর আগে মোবাইলের ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া নিয়ে তিনি অফিসের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রধান সহকারীকে জীবননাশের হুমকি দেন এবং অফিসের টেলেক্স অপারেটরকে শারীরিকভাবে আঘাত করে আহত করেন। এ কারণে তাঁকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মনগড়া, কাল্পনিক, অসত্য বলে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আদেশে হাবিবুর রহমান সম্পর্কে বলা হয়েছে, এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে আপিল কর্তৃপক্ষ ও সেই সময়ের তথ্যসচিব মানবিক কারণে ক্ষমা করে তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল করেন। তারপরও নিজেকে সংশোধন না করে তিনি একই অপরাধ বারবার করে চলছেন। তাঁর এ ধরনের কার্যকলাপের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধির আওতায় অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

হাবিবুর রহমান মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন