default-image

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে ফিরেছেন। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তাঁরা কাজে যোগ দেন। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার কথা বলেছেন তাঁরা।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সজল পান্ডে ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের অভিযোগ, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-৪-এর সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদ খান তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁরা সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন ভাগাভাগি নিয়ে ২০ অক্টোবর সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদ খানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মাসুদ খান। ২২ অক্টোবর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা মাসুদ খানের বিরুদ্ধে ডায়াগনস্টিকের কমিশন আদায়, নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন ও ইন্টার্নদের ভাতা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই দিনই ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

এরপর অভিযোগের বিচার না পাওয়া ও অভিযুক্তের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে যান।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের গেট আটকে দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় তাঁরা সেখানে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক মাসুদ খানের বিচার দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে রোগীরা ভর্তি হতে না পরে ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা ইন্টার্নদের সঙ্গে কথা বললেও জরুরি বিভাগের গেটটি বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত একটা ৫ মিনিটে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম সরোয়ার, হাসপাতালের পরিচালক বাকির হোসেন, উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা জরুরি বিভাগের গেট খুলে দিয়ে রোগীদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইন্টার্নদের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর ইন্টার্নরা জরুরি বিভাগের গেট খুলে দেন এবং হাসপাতালের নিচ তলাতেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

আলোচনা শেষে ইন্টার্নরা রাত আড়াইটার দিকে কর্মবিরতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সজল পান্ডে ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের পরিচালকের দেওয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন। তবে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে ইন্টার্নদের হয়রানি বন্ধ ও অন্যান্য দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

হাসপাতালের পরিচালক বাকির হোসেন শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পর আপাতত তাঁরা কাজে ফিরেছেন। বিষয়টি নিয়ে আজ আবার বসব।’

মন্তব্য পড়ুন 0