কয়েক যাত্রী জানান, এখন যাত্রী বেশি, যানবাহনের সংখ্যা কম। এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন অটোরিকশাচালকেরা। জামালপুর থেকে ময়মনসিংহের যাওয়ার জন্য অটোরিকশার ভাড়া ১৬০ টাকা। যাত্রীদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে। কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি বাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের।

ভকেশনাল সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। যানজট না থাকলে অটোরিকশায় ময়মনসিংহ যেতে ১ ঘণ্টা ও যানজট থাকলে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট লাগে। প্রতিদিন জামালপুর থেকে ময়মনসিংহে প্রায় ২৫০টি অটোরিকশা চলাচল করে। ঈদ ছাড়া প্রত্যেক যাত্রীর ভাড়া ১৬০ টাকা।

জামালপুর শহরের বজ্রাপুর এলাকার মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ‘জামালপুরে ভালো মানের বাস সার্ভিস নেই। ট্রেনের টিকিটও পাওয়া যায় না। যাঁরা অতিরিক্ত টাকায় টিকিট কাটছেন, তাঁরা ট্রেনের ভেতর পর্যন্ত যেতেই পারছেন না। ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড়। এ কারণে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যেতে হবে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পরিবার নিয়ে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছি। ময়মনসিংহে যেতে ড্রাইভাররা ভাড়া চাচ্ছেন ২৫০ টাকা করে। ১৬০ টাকার ভাড়া ঈদ উপলক্ষে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা নিতে পারে। তাই বলে ২৫০ টাকা নেবে!’

জিগাতলা এলাকার তারেক মাহমুদ ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঈদ শেষে কর্মস্থলে যাবেন। তিনি ভালুকায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা স্ট্যান্ডে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা টার্মিনালে এসে হতবাক হয়ে গেলাম। একজন ড্রাইভারকে ভাড়ার কথা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি ২৫০ টাকা চান। তাই ঘণ্টাখানেক ধরে দাঁড়িয়ে আছি। বুঝতে পারছি না কী করব।’

ঈদের মধ্যে আমাদের আরও লোকসান হয়। কারণ, এখান থেকে যাত্রী পাওয়া গেলেও ময়মনসিংহ থেকে খালি আসতে হয়। এখন একটি ট্রিপ নিয়ে গেলে সারা দিনের কাম শেষ। তাই ভাড়া একটু বেশিই নিতে হচ্ছে। তারপরও মালিকের জমা, রোডসহ বিভিন্ন খরচ দিয়ে কোনো টাকাই থাকে না
মো. মতিউর রহমান, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘ঈদের মধ্যে আমাদের আরও লোকসান হয়। কারণ, এখান থেকে যাত্রী পাওয়া গেলেও ময়মনসিংহ থেকে খালি আসতে হয়। এখন একটি ট্রিপ নিয়ে গেলে সারা দিনের কাম শেষ। তাই ভাড়া একটু বেশিই নিতে হচ্ছে। তারপরও মালিকের জমা, রোডসহ বিভিন্ন খরচ দিয়ে কোনো টাকাই থাকে না।’

জামালপুর জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের ভকেশনাল মোড় শাখা কমিটির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে, এটা সঠিক। কিন্তু একটি গাড়ির আপডাউনে (জামালপুর থেকে ময়মনসিংহে আসা–যাওয়া) ৭০০ টাকা খরচ আছে। তারপর মালিককে দিতে হয় ৫০০ টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে, জামালপুর শহরে সিএনজি পাম্প মাত্র একটি। তাই গ্যাস নিতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লেগে যায়। সারা দিনে একটি গাড়ি একবার আসা-যাওয়ার বেশি ভাড়া মারতে পারে না। তাই চালকেরা একটু বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।

জামালপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক ফকির সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো যাত্রী তাঁদের কাছে অভিযোগ করেননি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন