কলমাকান্দার ইউএনও মো. আবুল হাসেম জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ছয় হাজার মানুষ রয়েছে। শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী। পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই উপজেলার সঙ্গে ইউনিয়নগুলোর যোগাযোগের সড়কগুলোর অনেক অংশ এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। কিছু উঁচু সড়ক থেকে পানি নামলেও বন্যায় সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা যানবাহন নিয়ে সরাসরি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, আজ সকাল ১০টায় উব্দাখালী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫৫ মিটার। ধনু নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কংস নদের জারিয়া পয়েন্টে ও সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর ও দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে ৯৮ হাজার ৪৫২ মানুষ রয়েছে। পানিবন্দী রয়েছে আরও প্রায় ২ লাখ মানুষ। ৭৫টি ইউনিয়নে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৪০০। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ১০টি উপজেলায় এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৯৩ মেট্রিকটন জিআর চাল, নগদ ২৩ লাখ টাকা ও ৪ হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার। এর মধ্যে ২৬৩ মেট্রিকটন চাল, ৯ লাখ টাকা ও ৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, পানি নেমে যাওয়ায় অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন