default-image

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের ভাড়াটে মোটরসাইকেলচালক ও শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. রায়হান (২২) বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি তালতলীতে রওনা হন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ নেই। পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁকে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত শুক্রবার ভাইরাল হয়।

রায়হান উপজেলার মহিপুর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার কাশেম মিয়া মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

কাশেম মিয়া বলেন, উপজেলার লতাচাপলীর ফাঁসিপাড়া গ্রামের নেছার সিকদারের ছেলে ইমাম শিকদারের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন রায়হানকে নির্মম নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় ইমাম ছাড়াও মসিউর, ইমরান, বিপ্লব শীল জড়িত রয়েছেন। মহিপুর থানা–পুলিশ এর মধ্যে ইমাম ও মসিউরকে শনাক্ত করতে পারলেও এখন পর্যন্ত রায়হানকে উদ্ধার বা জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

কাশেম মিয়া আরও বলেন, ‘স্থানীয় শাজাহান শিকদারের মাধ্যমে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ভিডিওটি তিনি দেখতে পান। ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে রায়হানকে বেঁধে একটি নির্জন বনের মধ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছে ৪-৫ সন্ত্রাসী। আমি রায়হানের অবস্থান জানতে আমার ছেলে বউ মহিমার কাছে মোবাইল করেছি। কিন্তু রায়হান তার কাছে (মহিমা) যায়নি বলে সে জানায়। এতে ওর স্ত্রীও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। আমি বিষয়টি মহিপুর থানা–পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু তিন রাত দুই দিন পরও রায়হানকে উদ্ধার করা যায়নি। এর সঙ্গে জড়িত কোনো সন্ত্রাসীও গ্রেপ্তার হয়নি।’

কাশেম বলেন, ‘ইমাম শিকদার তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছে আপনার ছেলেকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরও খারাপ হবে। সন্তানকে না পেয়ে পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। মাদক কারবারের দায়ে একাধিকবার তাঁরা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এবং তাঁদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা একটি গ্যাং গ্রুপ।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার পর থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। রায়হানকে উদ্ধার চেষ্টার পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন