বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, মহিপুর ও আলীপুর প্রান্তে আলাদাভাবে অফিস ভবন, ৪০টি কক্ষবিশিষ্ট আড়ত ভবন, ১০ হাজার বর্গফুটের ১টি অকশন শেড, ২ হাজার বর্গফুটের ১টি প্যাকিং শেড, ১টি পর্যবেক্ষণ কক্ষ (মাছের গুণগত মান যাচাইয়ে ল্যাবরেটরি), ১০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ১টি বরফকল, ১টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দোতলা আবাসিক ভবন, ১টি পাম্প হাউস, ২টি নিরাপত্তা কক্ষ, ১টি গণশৌচাগার, ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের ট্রাক পার্কিং এবং নদীর দিকে ১টি গ্যাংওয়ে ও ১টি পন্টুন নির্মাণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত হিসেবে শুধু আলীপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে ২টি অকশন শেড নির্মাণ করা হয়েছে।

মহিপুর এলাকার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটি ১ একর ৯ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত। এটি নির্মাণে জমির মূল্যসহ ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আলীপুর এলাকার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটি ১ একর ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে জমির মূল্যসহ ১৫ কোটি টাকার বেশি।

মহিপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে মাছ কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান দুটিতে দুজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক, একজন উচ্চমান সহকারী এবং দুই পাশের দুটি অবতরণকেন্দ্রের জন্য চারজন বরফকল অপারেটর নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি পুরোপুরি চালু হলে জনবল আরও বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে দুই পাশের অবতরণকেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে ৪০ জন জনবল প্রয়োজন হবে।

আলীপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শাকিল আহমেদ বলেন, এর আগে সাগরবক্ষ থেকে মাছ ধরার পর ট্রলার থেকে নামিয়ে স্থানীয় জেলেরা মহিপুর, আলীপুর মৎস্যবন্দরের আড়তগুলোতে নিজেদের মতো করে রাখতেন। তারপর বাজারজাত করতেন। এতে মাছের গুণগত মান ঠিক থাকত না। তা ছাড়া মাছ পরিমাপ করা, সংরক্ষণ করা—কোনোটিই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে করা হতো না। সরকারিভাবে মাছ কেনাবেচার এই প্রতিষ্ঠান দুটি চালু হলে জেলেরা মাছের গুণগত মান পরীক্ষা করে তা বাজারজাত করতে পারবেন। তা ছাড়া ট্রলার থেকে মাছ নামিয়ে বাছাইকরণ, গ্রেডিং করা, পাইকারি বিক্রির সুবিধা, প্যাকিং সুবিধা ছাড়াও ট্রাকে তুলে মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন।

মহিপুর ও আলীপুরে আলাদাভাবে দুটি মৎস্য অবতরণকেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও প্রতিষ্ঠান দুটিতে যাতায়াতের সড়কব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এ বিষয়ে মহিপুর মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, ‘এ এলাকায় সরকারিভাবে মৎস্য বাজারজাত করার জন্য অবতরণকেন্দ্র গড়ে তোলায় আমরা খুশি। কিন্তু অবতরণকেন্দ্র দুটি থেকে মাছ পরিবহনের জন্য সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। বিশেষ করে মহিপুর প্রান্তে অবস্থিত মহিপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে যাতায়াতের সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

ফজলু গাজী বলেন, এখানকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর দিয়ে যে সড়কটি আছে, তার পিচ উঠে গেছে অনেক আগেই। খোয়াও উঠে গেছে। প্রবল বর্ষণে ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির কোথাও কোথাও মাটি দেবে ঢালু হয়ে গেছে। হাঁটার মতো অবস্থাও নেই। অপর দিকে আলীপুর প্রান্তে অবস্থিত আলীপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে যাতায়াতের সড়কটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়কের পিচ, খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক মেরামত না করে মৎস্য অবতরণকেন্দ্র চালু করা হলে কীভাবে মৎস্য ব্যবসায়ীরা মাছ বাজারজাত করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মহিপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সড়ক দুটি মেরামতে এলজিইডির মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহিপুর প্রান্তের সড়কটির জন্য ২ কোটি ৯৯ লাখ ৬৮ হাজার ৩৬৫ টাকা প্রাক্কলন ধরা হয়েছে। মহিপুর বন্দর থেকে মৎস্য অবতরণকেন্দ্র পর্যন্ত ৮০০ মিটার আরসিসি ঢালাই সড়ক হবে। এর প্রস্থ ১৪ ফুট। মৎস্য অবতরণকেন্দ্র থেকে পশ্চিম দিকে ১ হাজার ১৫০ মিটার বিটুমিন ঢালাই সড়ক হবে। এর প্রস্থ হবে ১০ ফুট।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, আলীপুর প্রান্তের সড়কটির জন্য ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ২৭০ টাকা প্রাক্কলন ধরা হয়েছে। এই অংশেও ৪০০ মিটার আরসিসি ঢালাই হবে। এর প্রস্থ ১০ ফুট। শিগগিরই এই কাজ বাস্তবায়ন হবে।

মহিপুর ও আলীপুরের মৎস্য অবতরণকেন্দ্র উপকূলবর্তী এলাকার জেলেদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রকল্পের পরিচালক মো. জামাল হোসেন মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, এ উপকূলের জেলেরা শুধু ইলিশনির্ভর নন। জেলেরা সমুদ্রে জাল ফেলে ইলিশের সঙ্গে অন্য মাছও ধরে থাকেন। সব ধরনের মাছ বাজারজাত করার কথা চিন্তা করেই সরকার এখানে দুটি অবতরণকেন্দ্র গড়ে তুলেছে।
জামাল হোসেন আরও বলেন, অবতরণকেন্দ্র দুটির আড়তদারদের মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা ঘর ভাড়া দিতে হবে। এ ছাড়া পন্টুন, অকশন শেড, ট্রাক পার্কিং সুবিধাসহ সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা থাকবে। কোনো কারণে বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর থাকবে। এ কারণে কখনোই বরফ সংকট থাকবে না। বরফ কেনায় ৫০ শতাংশ মূল্য ছাড় থাকবে। এখানে মাছে ফরমালিন মিশিয়ে বা মাছের গুণ নষ্ট করবে এমন কিছু করার সুযোগ থাকবে না। সার্বক্ষণিক মাছের গুণগত মান পরীক্ষা করা হবে। এখানকার অকশন শেডসহ সবকিছুতে ‘হাইজেনিক’ সুবিধা থাকবে।

জামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত একটি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা এখানে গড়ে তুলতে পারব। অবতরণকেন্দ্র দুটি চালু হলে প্রান্তিক পর্যায়ের জেলেরা এখন থেকে মাছের ন্যায্যমূল্যও পাবেন, আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন