default-image

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হ‌ুমায়ুন কবিরের নির্ধারিত উঠান বৈঠক সন্ত্রাসী হামলায় পণ্ড হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিপুল চন্দ্র হাওলাদারের সমর্থকদের দায়ী করেছে।

হামলায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সুমন গাজী (৪০), কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সিকদার জুয়েল ইকবাল (৩২), সরকারি এমবি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সিকদার (২৭), উপজেলা বিএনপির সদস্য ও আইনজীবী মো. আবুল হোসেন (৪১), উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী আক্কাস উদ্দিন (৫৩), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুর এলাহী (৩৭) এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য শেখ জসিম উদ্দিন (৪৭) আহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত ব্যক্তিদের কারও মাথা ফেটে গেছে, কারও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হ‌ুমায়ুন কবির, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ বি এম মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বৈঠক স্থলের পাশে মসজিদে দৌড়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

হামলার সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হ‌ুমায়ুন কবির, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ বি এম মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বৈঠক স্থলের পাশে মসজিদে দৌড়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

পরে এ ঘটনা নিয়ে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হ‌ুমায়ুন কবির। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ বিকেল সাড়ে চারটার সময় কলাপাড়া পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র মাদ্রাসা মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে নির্ধারিত উঠান বৈঠক ছিল। হঠাৎ করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দুই শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে উঠান বৈঠক বানচাল করার জন্য ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সভা পণ্ড করে দেয়। এ সময় কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সিকদার জুয়েল ইকবালসহ ১০-১২ জন বিএনপি কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা নৌকা মার্কার স্লোগান দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে।

বিজ্ঞাপন
ওই রকম খারাপ কিছু হয়নি। কিছুটা তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। তবে পুলিশ তৎপর ছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত। বিএনপির নেতারা পাশের মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে চলে এসেছেন।
মো. আশাদুর রহমান, কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত)

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘হামলাকারীরা ১৪ ফেব্রুয়ারি কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে পৌর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। তা ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেবে না বলে হুমকিও দিয়েছে। আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষ যাতে ভোটের দিন তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনসহ নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘আমি অন্য একটি এলাকায় নির্বাচনী সভায় ব্যস্ত ছিলাম। ওই এলাকায় কী হয়েছে, তা আমি জানি না। তবে আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’

কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশাদুর রহমান হামলার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ওই রকম খারাপ কিছু হয়নি। কিছুটা তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। তবে পুলিশ তৎপর ছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত। বিএনপির নেতারা পাশের মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে চলে এসেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন